"অগর্ কিসি চিজ কো দিল সে চাহো … তো পুরে কায়েনাত উসসে তুমসে মিলানে কি কোশিশ মেঁ লাগ জাতি হ্যায়” বলিউডের বাদশার এই ডায়লগ শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবে সত্যি করে দেখিয়েছেন একজন।
2
13
মন থেকে সত্যি এমন কিছু কল্পনা করেছিলেন কি না জানা নেই কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত হয়েও শিকড়ের টান আজও অটুট৷ সাফল্য সত্ত্বেও তাঁর শরীরে-মনে মাটির গন্ধ।
3
13
বাবা সবজি বিক্রেতা৷ নুন আনতে পান্তা ফুরোয় যে ঘরে সেখানে মেয়েকে ইস্কুলে পাঠানো বিলাসিতাই বটে৷ কিন্তু সেই অতি তুচ্ছ মেয়ের শিল্পকলার চাহিদা আজ সমস্ত বিশ্বে৷ তিনি শাকিলা শেখ। অনন্য সাধারণ কোলাজ তৈরি করে নজর কেড়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের শিল্প গুণমুগ্ধ মানুষের।
4
13
শাকিলার যখন বছরখানেক বয়স, তখন তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পেটের দায়ে শাকিলা রোজ মা'র সঙ্গে কলকাতায় আসতেন সবজি বিক্রি করতে। প্রায়শই সবজি কিনতে আসতেন শিল্পী সমাজসেবক বলদেববাবু ওরফে ডিমবাবু৷ পথশিশুরা তাঁকে 'ডিমবাবু' বলে ডাকত।
5
13
শাকিলার বিয়ে হয় তাঁর চেয়ে পনেরো বছরের বড় আকবরের সঙ্গে।8. সাংসারিক টানাপড়েনে জেরবার শাকিলা শরণাপন্ন হলেন ডিমবাবুর৷ তিনি শাকিলাকে ঠোঙা বানাতে বললেন৷ কালক্রমে ডিমবাবু হয়ে উঠলেন শাকিলা এবং আকবর দুজনের বাবা। এভাবেই চলছিল জীবন৷
6
13
একদিন বাবা জোর করে শাকিলাকে নিয়ে গেলেন একটি প্রদর্শনী দেখতে। ফিরে এসে স্বামীকে কার্ডবোর্ড এবং রঙিন পেপার এনে দিতে অনুরোধ করেন শাকিলা৷ এরপর রূপকথার গল্পের শুরু৷
7
13
জীবনের চেনা বিষয়বস্তু হয়ে উঠল শিল্পকর্ম৷ কোথাও আদ্যাশক্তি মহামায়ার রুদ্র মূর্তি আবার কোথাও কর্মব্যস্ত সেই মা যে সংসারের মুখে অন্ন জোগাতে খেটে চলেছেন দিনভর। আবার কোথাও স্বপ্নের সেই ছোটো মেয়েটা যে আস্তাকুঁড়ে শুয়ে থাকলেও দুচোখে স্বপ্ন রঙিন।
8
13
পানেসারই প্রথম শাকিলার শৈল্পিক প্রতিভা আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে তাঁর পরামর্শদাতাকে অনন্য কিছু উপহার দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, শাকিলা তাকে ম্যাগাজিনের রঙিন কাগজ থেকে তৈরি চারটি কোলাজ উপহার দিয়েছিলেন।
9
13
পানেসার শাকিলার শিল্পকর্ম দেখে অবাক হয়েছিলেন, বুঝতে পেরেছিলেন যে শাকিলা একজন অনন্য সাধারণ প্রতিভা। তিনি সমসাময়িক শিল্পীদের সঙ্গে শাকিলার কাজের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। শাকিলার কাজ দেখে শিল্পীরাও বিস্মিত হয়ে যান।শিল্পীদের মধ্যে একজন বলেন, "আমরা পাঁচ বছর ধরে আর্ট কলেজে যা শিখি, এই মেয়েটি সেই শিক্ষা প্রতিভা জন্মগতভাবে তা নিয়েই এসেছে৷"
10
13
শাকিলার কথায়, "বাবা আমাকে বলেছিলেন যে আমি যেন সবসময় আমার আগের কাজের থেকে আরও ভালো কিছু তৈরি করার চেষ্টা করি। একই নকশা বারবার করার পরিবর্তে, আমি প্রতিবার নতুন কিছু তৈরি করতে পছন্দ করি।"
11
13
14. ১৯৯০ সালে নিজের প্রথম প্রদর্শনী করলেন শাকিলা। অভাবের সংসারে প্রথম তাঁর ৭০,০০০ টাকা উপার্জন হল। ভারতে তো বটেই, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় দেশগুলিতেও তাঁর সৃষ্টি সমাদৃত হয়েছে।
12
13
শাকিলার শিল্পকর্মে উজ্জ্বল রঙ দেখা যায়। শাকিলার সৃষ্টি পরাবাস্তব এবং স্বপ্নের মতো। তবুও, তাঁর জীবনের দুঃখ কখনও কখনও তাঁর সৃষ্টিতে কিছু অন্ধকার, রহস্য আর ছায়া রেখে যায়৷
13
13
এখন তাঁর তৈরি শিল্পকর্মের আর্থিক হিসেব রাখে একটি বিশেষ টিম। কিন্তু বদলায়নি শাকিলা, আজও তার পোশাকে ব্যবহারে নেই কোনো খ্যাতির অহং। যে মাটিতে শুয়ে কেটেছে ছোটোবেলা, সেই মাটিতেই পা রেখে বিশ্বদরবারে আসন পেতেছেন শাকিলা।