ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর সারাক্ষণ ফোন-ল্যাপটপে চোখ—এই সব কারণে অনেকেরই এখন ঠিকমতো ঘুম হয় না। ভাল ঘুমের জন্য সমাজমাধ্যমে নতুন একটি শব্দ 'স্লিপম্যাক্সিং' খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজভাবে বললে, 'স্লিপম্যাক্সিং' হল সেই পন্থা যা  ঘুমের গুণগত মান বৃদ্ধি করে৷ 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম শুধু শরীরের বিশ্রামের জন্য নয়, ঘুম ভাল হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে৷ বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন। স্লিপম্যাক্সিং ট্রেন্ড মূলত মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সুস্থ সুন্দর জীবনের জন্য যে ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি৷ 

ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে স্লিপম্যাক্সিং কীভাবে কাজ করে? 

১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে গেলে এবং একই সময় ঘুম থেকে উঠলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক থাকে৷ এর ফলে রাতের একটা নির্দিষ্ট সময় যেমন ঘুম আসে তেমনি সকালে খুব সহজেই নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে উঠে পড়া যায়৷ 

২. ঘুমের আগে আলোর তীব্রতা কমিয়ে দিলে এবং ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার না করলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন বেশি তৈরি হয়। এই হরমোনই গভীর ঘুমের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক৷

৩. ঘুমোনোর আগে ধ্যান করলে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে বা বই পড়লে মন শান্ত হয়৷ এতে স্ট্রেস কমে এবং দ্রুত ঘুম আসে।

৪. ঘর যদি খুব গরম, তীব্র আলো বা শব্দপূর্ণ হয়, তাহলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে৷ স্লিপম্যাক্সিংয়ে তাই ঘুমের পরিবেশকে যতটা সম্ভব শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা হয়।

কী কী করবেন?  

★ ঘুমোনোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপ বন্ধ করতে হবে৷ 
★ঘর অন্ধকার রাখতে ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করতে পারেন
★রাতে সহজে হজম হয়ে যাবে এমন খাবার খেতে হবে 
★ ঘুমোনোর আগে অল্প হাঁটাহাঁটি অথবা মেডিটেশন করতে পারেন