আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে গৃহস্থালির জন্য ১০০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে, রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের দু'-আড়াই দিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। 

সরকার একদিন আগেই রান্নার গ্যাসের বুকিং সংক্রান্ত নিয়মে আরও কড়াকড়ি করেছে। আগে যেখানে একটি এলপিজি সিলিন্ডার বুক করতে ২১ দিনের ব্যবধান ছিল, তা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। যাতে মজুতদারি বা আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং বন্ধ করা যায়। একটি অন্তর্বর্তী প্যানেল সাংবাদিক বৈঠকে জানায়, ভুল তথ্যের কারণে মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাস বুক করছে, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

প্যানেলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী গৃহস্থালির গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার পাবে, যদিও শিল্পক্ষেত্র বা অন্যান্য খাতে কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। বর্তমানে ভারতের এলপিজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আসে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সঙ্কট মোকাবিলায় দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গৃহস্থালি গ্রাহকের মতো অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে রেস্তোরাঁ ও হোটেল শিল্পের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দেবে। বর্তমানে দিল্লিতে একটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৯১৩ টাকা, যা সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে আরও বেশি হতে পারত বলে জানানো হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৩ কোটি এলপিজি সংযোগ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সরাসরি ভারতীয় গৃস্থলির  উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, বিভিন্ন উৎস ও বিকল্প রুট থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে ভারতে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরিস্থিতির উপর সারাক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।” উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি ক্রেতা এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ। তাই পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।