আমরা সাধারণত মনে করি ফল, শাকসবজি বা প্রাকৃতিক খাবার মানেই শরীরের জন্য ভাল। কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় বিষয়টা এতটা সহজ নয়। ফ্রিজে থাকা কিছু পরিচিত ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবারও বিশেষ পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা হৃদরোগে ভুগছেন বা নিয়মিত কিছু ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার নিজে খারাপ নয়। সমস্যা হয় তখনই, যখন শরীরের অবস্থা, কিডনির কাজ বা ওষুধের সঙ্গে খাবারের উপাদান মেলে না। তখন সেই খাবার শরীরে অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলতে পারে। তেমনই তিনটি খাবার হল-
১. কলা: কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা সাধারণভাবে শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে বা যারা কয়েকটি হার্টের ওষুধ খান, তাদের শরীরে পটাশিয়াম জমে যেতে পারে। এতে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায় এবং হৃদস্পন্দনের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। তাই অতিরিক্ত কলা খাওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
২. আঙুর: আঙুরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। কিন্তু এই ফল কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগ বা ট্রান্সপ্লান্টের পরে যে ওষুধ দেওয়া হয়, গ্রেপফ্রুট খেলে সেই ওষুধের কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে। ফলে শরীরে ওষুধের মাত্রা বেশি হয়ে গিয়ে বিপদ তৈরি হতে পারে।
৩. পালং শাক: পালং শাক পুষ্টিতে ভরপুর। এতে আয়রন, ভিটামিন ও খনিজ প্রচুর থাকে। তবে এতে পটাশিয়াম ও ভিটামিন কে বেশি থাকে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে এটি ওষুধের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকরা বলেন, পালং শাক খাওয়া যাবে, কিন্তু হঠাৎ করে বেশি খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত মাত্রায় খাওয়াই ভাল।
চিকিৎসকদের মতে, কোনও খাবারই পুরোপুরি ভাল বা খারাপ নয়। মানুষের শরীর, রোগ এবং ওষুধের উপর নির্ভর করে খাবারের প্রভাব বদলে যেতে পারে। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত বা দীর্ঘদিন ওষুধ খান এমন ব্যক্তিদের খাবার বাছাইয়ের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
