ভারতে গ্রীষ্মকালে বহু জায়গার তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে। এমনকী কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ পরিস্থিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরম শুধু ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ডিহাইড্রেশনের কারণই নয়, এটি কিডনির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গরমের সময় কিডনিকে সুস্থ রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকেই জানা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল শরীরে জলের ঘাটতি। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়। ফলে শরীর দ্রুত জল ও খনিজ হারায়। যদি সেই ঘাটতি সময়মতো পূরণ না করা হয়, তাহলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। কারণ কিডনির কাজ হল শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা এবং শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক রাখা। শরীরে জল কমে গেলে কিডনিকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরমে কখনও কখনও শরীরে রক্তের পরিমাণও কমে যায়। ফলে কিডনিতে রক্ত পৌঁছনোর মাত্রা কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কিডনির কাজ ব্যাহত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা গুরুতর আকার নিতে পারে।

গরমকালে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শরীরে জল কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। তখন প্রস্রাবে থাকা ক্যালসিয়াম বা অন্যান্য খনিজ জমে ছোট ছোট পাথর তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরমে পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু মানুষ এই সময় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন—বয়স্করা, যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে অথবা যাঁরা নিয়মিত কিছু ওষুধ খান। তীব্র গরমে তাঁদের শরীরে জলের ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে। খুব বেশি মিষ্টি পানীয় বা সফট ড্রিঙ্ক না খাওয়াই ভাল। দুপুরের তীব্র রোদে বেশি সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখা এবং হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাসও কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সামান্য সচেতন থাকলেই গরমের সময় কিডনির অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। তাই গ্রীষ্মের শুরু থেকেই শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি।