আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার ডাভোসে বোর্ড অফ পিসের সূচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, এই সনদের বর্তমানে সদস্য হিসেবে রয়েছে ৩৭টি দেশ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘প্রায় সব দেশই এর অংশ হতে চায়।’ ট্রাম্পের ভাষায়, এই উদ্যোগ গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তব করা, পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা বজায় রাখার তদারকি করবে।

পাশাপাশি, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের সংঘাতেও এর ভূমিকা বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইন ও মরক্কোর নেতারা। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা জোড়ায় জোড়ায় এসে সনদে স্বাক্ষর করেন।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নথিতে স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প ক্যামেরার দিকে তুলে ধরে হাসিমুখে সেগুলি প্রদর্শন করেন এবং অন্য নেতাদের স্বাক্ষরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

ট্রাম্প জানান, ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব নেবেন। সংস্থাটিকে তিনি ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনাময় বলে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হয়ে উঠতে পারে। এটির নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত।’ তিনি দাবি করেন, বোর্ডটি পুরোপুরি গঠিত হলে ‘আমরা প্রায় যা ইচ্ছে, তাই করতে পারব।’

যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।

তিনি মন্তব্য করেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের হুমকি ‘ধীরে ধীরে কমছে।’ সাফ জানান, ক্ষমতায় আসার পর থেকে একা আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছেন তিনি।

‘খুব শীঘ্রই’ আরও একটি সমাধান আসতে চলেছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তুলনামূলক সতর্ক সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যেটাকে আমি সবচেয়ে সহজ মনে করেছিলাম, সেটাই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, বোর্ড অফ পিস ও জাতিসংঘ একসঙ্গে কাজ করলে খুব সহজেই যাবতীয় সমস্যা মিটে যাবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া একরকম নয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাজ্য আপাতত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই উদ্যোগে অংশ নিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প ফরাসি মদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

এদিন ভাষণে তিনি বলেন, ‘ইরান কথা বলতে চায় এবং বলবেও।’ পাশাপাশি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হামাসকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তারা যদি অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হয়, তবে শীঘ্রই হামাস ‘ধ্বংস হয়ে যাবে’। তিনি স্পষ্ট করে দেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনও আপস হবে না।

তাঁর দাবি, সদ্য ঘোষিত শান্তি কাঠামোর প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাই হল হামাসের অস্ত্র ত্যাগ। তিনি জানান, হামাস আদৌ এই শর্ত মানতে প্রস্তুত কি না, তা ‘আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই, অন্তত আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে’ ওয়াশিংটনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।