ভারতের সবজিতে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা (lead) দূষণের ইঙ্গিত মিলেছে এক সরকারি রিপোর্টে। Central Pollution Control Board (CPCB)–এর একটি কমিটি এই রিপোর্ট ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ National Green Tribunal (NGT)-এ জমা দেয়।
2
6
Food Safety and Standards Authority of India (FSSAI) অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে ১১ ধরনের ভারী ধাতু, তিনটি খনিজ এবং ২৩০টি কীটনাশক অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ১৯টি সবজির নমুনায় সিসার মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি দূষণ পাওয়া গেছে বেগুনে, এরপর বিভিন্ন লাউ-কুমড়ো জাতীয় সবজিতে। এছাড়া শিম, বিট, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম, লঙ্কা, শসা, পাটশাক, ওলকপি ও স্কোয়াশেও সিসা পাওয়া গেছে।
3
6
বেগুনে সিসার মাত্রা পাওয়া গেছে ১.৯৫৩ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি, যেখানে অনুমোদিত সীমা মাত্র ০.১ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি—অর্থাৎ প্রায় ২০ গুণ বেশি। চিকিৎসকদের মতে, যদি গাছ মাটি থেকে সিসা শোষণ করে নেয়, তবে সবজি ধোয়া বা খোসা ছাড়ালেও তা পুরোপুরি দূর করা যায় না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯টি সবজির নমুনায় সিসার মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত পাওয়া গেছে বেগুন। এরপর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের লাউ ও কুমড়ো জাতীয় সবজি। এছাড়া শিম, বিট, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম, লঙ্কা, শসা, পাটশাক, ওলকপি এবং স্কোয়াশেও বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে।
4
6
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাটি ও জল ছাড়াও দূষিত বাতাস থেকেও সবজির উপর সিসা জমতে পারে। একই সঙ্গে ৭০টি সবজির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ১০টিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ রয়েছে। তবে শুধু সিসা নয়, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিয়েও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। মোট ৭০টি সবজির নমুনায় ২৩০ ধরনের কীটনাশকের পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ১০টি নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি কীটনাশক অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
5
6
শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অতিরিক্ত সিসা শরীরে ঢুকলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বুদ্ধিবিকাশে সমস্যা ও আচরণগত ব্যাধি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সিসার কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। অনেক সময় শিশুদের শরীরে সিসা থাকলেও তৎক্ষণাৎ কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই তা ধরা সম্ভব।
6
6
World Health Organization (WHO) অনুযায়ী, সিসা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এটি হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবজি ভালোভাবে ধোয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রান্নার আগে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে সবজি। খাবারে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি আছে এমন খাবার তালিকায় রাখলে অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।