আজকাল ওয়েবডেস্ক: দায়িত্ব পেয়েই 'নিখোঁজ' ইরানের নতুন শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই! ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ঝাঁঝ যখন বেড়েই চলেছে, ঠিক সেই আবহে জনসমক্ষে আসছেন না মোজতবা। কিন্তু কেন? মোজতবার 'নিখোঁজ' হওয়ার খবর রটতেই মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের আবহে আহত হয়েছেন ইরানের নতুন শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান ও তাঁর ছেলে ইউসুফ পেজ়েশকিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের চলমান যুদ্ধের আবহে আহত হয়েছেন মোজতবা। তবে তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত রয়েছেন। 

তবে মোজতবা কোথায় চোট পেয়েছেন, কীভাবে হামলার শিকার হয়েছেন, তা প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার ইরানের শীর্ষ নেতার মসনদে বসেছেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ছেলে, মোজতবা খামেনেই। কিন্তু শীর্ষ নেতার দায়িত্ব পাওয়ার পরেও দেশবাসীর উদ্দেশে এখনও কোনও ভাষণ দেননি। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। মৃত্যুকালে খামেনেইর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে ছিলেন আলি খামেনেই। ইরানের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন তিনিই। জল্পনা শুরু হয়েছিল, ইরানের মসনদে কে বসবেন? অবশেষে ৩৭ বছর পর ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছে। 

ইরানে মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা বা আলেম হিসেবেই মোজতবা  খামেনেই সর্বাধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মোজতবা। তবে কোনও রাজনৈতিক পদ তাঁর ছিল না। ১৯৮৭ সালে ইসলামিক মিলিটারি কর্পসে যুক্ত হয়েছিলেন মোজতবা। এরপর ইরান ও ইরাকের যুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ইরানে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলি খামেনেইকে সুপরামর্শ দিতেন মোজতবা। 

তা সত্ত্বেও খামেনেই যে তিন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম ঠিক করে গেছেন, সেখানে মোজতবার নাম ছিল না। ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা হতে গেলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ হলেও, নীতি নির্ধারণের সাহায্য করলেও, মোজতবার কোনও রাজনৈতিক পদ ছিল না। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শীর্ষ নেতার দৌড়ে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু দ্য ইরান গার্ডের মতে, যুদ্ধের জেরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে মোজতবার। তাই তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতা হিসেবে।