আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংঘাত-বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'গাজা শান্তি বোর্ডে' গঠন করেছেন। সেখানে ঠাঁই হয়েছে পাকিস্তানের। ওয়াশিংটন এই বোর্ড'কে একটি "আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই শান্তি বোর্ডে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিতদের দীর্ঘ তালিকায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে নাম রয়েছে ভারতেরও। কিন্তু ভারত এখনও আমেরিকার এই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। তবে, পাকিস্তান আমন্ত্রণ পেতেই লুফে নিয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ট্রাম্প এবং 'শান্তি বোর্ডের' অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে। যা ভারতের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। এই বোর্ডে ইসলামাবাদের 'বন্ধু' তুরস্কও রয়েছে। ভারত বারবার সীমান্ত সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁওতে গত বছরের ২২শে এপ্রিলের ভয়াবহ জঙ্গি হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
যদিও 'গাজা শান্তি বোর্ড'-এ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইজরায়েলও প্রশ্ন তুলেছে।
এই মাসের শুরুতে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত গাজার জন্য যেকোনও স্থল অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার যেকোনও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রুভেন আজার এনডিটিভিকে বলেছেন যে, হামাস এবং পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত লস্কর-ই-তৈয়বা-সহ অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়ে উদ্বেগের কারণে ইজরায়েল পাকিস্তানের অংশগ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না।
রুভেন আজা আরও বলেন, "এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার জন্য হামাসকে অবশ্যই নির্মূল করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই।" ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, দেশগুলো সাধারণত কেবল তাদের সঙ্গেই সহযোগিতা করে- যাদের তারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সঙ্গে তাদের সঠিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন, "এখন পরিস্থিতি এমন নয়।" এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, ইজরায়েল গাজার স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত কোনও প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে একটি বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে না।
ইজরায়েলের অর্থনীতি ও শিল্পমন্ত্রী নির বারকাতও একইভাবে জোর দিয়ে বলেছেন যে, যেকোনও অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী বা পুনর্গঠন মিশনে পাকিস্তানি সৈন্যদের উপস্থিতি "অগ্রহণযোগ্য"।
'শান্তি বোর্ডে' কোন কোন দেশ আছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব ছাড়াও, 'গাজা শান্তি বোর্ড'-এ থাকা অন্যান্য দেশগুলো হল আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, প্যারাগুয়ে, উজবেকিস্তান, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, যিনি একজন জাতীয়তাবাদী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক, তিনিও এই বোর্ডে আছেন, যেমন আছেন আরেক ঘনিষ্ঠ 'বন্ধু' ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন যে 'শান্তি বোর্ডে'র অংশ হতে 'সবাই' আগ্রহী এবং "রাষ্ট্রসংঘ-সহ আরও অনেকের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।" তিনি আরও বলেন যে, শান্তি বোর্ড প্রথমে গাজার উপর মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু করবে, কিন্তু পরে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, "আমার মনে হয়, গাজায় শান্তি চুক্তি সফল হওয়ার পর আমরা অন্যান্য বিষয়েও মনোযোগ দিতে পারব... আমরা গাজায় খুব সফল হতে চলেছি।" তিনি যোগ করেন, "আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারি। এই বোর্ডটি পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা কার্যত যা খুশি তাই করতে পারব।" তবে, 'শান্তি বোর্ডে' বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দেশের অনুপস্থিতি রয়েছে, যার মধ্যে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানির মতো পশ্চিম ইউরোপীয় প্রভাবশালী দেশগুলো এবং রাশিয়াও অন্তর্ভুক্ত।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি হল চীন। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে বলেছেন যে বেজিং রাষ্ট্রসংঘকে "কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে" আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করবে।
কে এই বোর্ড পরিচালনা করবে?
ট্রাম্প চেয়ারম্যান থাকবেন, তবে তিনি "আলাদাভাবে" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের সনদে বলা হয়েছে, "শান্তি বোর্ডের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত হিসেবে সহায়ক সংস্থা তৈরি, সংশোধন বা বিলুপ্ত করার একচেটিয়া ক্ষমতা চেয়ারম্যানের থাকবে।"
এরপর ট্রাম্প, কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের বেছে নেবেন, যাঁরা হবেন "বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সব নেতা" এবং তারা "দুই বছরের মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অপসারণযোগ্য।" এদিকে, চেয়ারম্যানকে কেবল "স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা অক্ষমতার কারণে" সরানো যাবে।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে একজন মার্কিন আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে, হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরেও ট্রাম্প চেয়ারম্যানের পদ ধরে রাখতে পারবেন, "যতক্ষণ না তিনি পদত্যাগ করেন", যদিও ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন ভিন্ন মার্কিন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারেন।
