আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল দিল্লি হাইকোর্ট। খোদ প্রধান বিচারপতির এজলাসে ভার্চুয়াল শুনানি চলাকালীন হঠাৎই স্ক্রিনে ভেসে উঠল চরম আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও। একবার নয়, বারবার এই ঘটনার জেরে থমকে যায় বিচারপ্রক্রিয়া। এমনকি এটি কেবল কোনও  যান্ত্রিক গোলযোগ নয়, বরং আদালত কক্ষের সিস্টেম ‘হ্যাক’ করা হয়েছে বলে দাবি করে এক রহস্যময় কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ায় আদালত চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিদিনের মতোই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি চলছিল। হঠাৎই দেখা যায়, কোনও  এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিজের স্ক্রিন শেয়ার করে পর্নোগ্রাফিক বা অশ্লীল উপাদান চালাতে শুরু করেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আদালত কক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপতিরা স্তম্ভিত হয়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ ভার্চুয়াল সিস্টেমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে ফের শুনানি শুরু করা হলেও দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটে। এবারও স্ক্রিনে ভেসে ওঠে আপত্তিকর ছবি। এর ফলে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং আদালত কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়বার সিস্টেমটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এরপর আর সেই দিন শুনানি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি কেবল অশ্লীল ভিডিও প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ ছিল ছিল না, বরং এর পিছনে গভীর কোনও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শুনানিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী, ওই ভিডিও চলার সময় স্ক্রিনে একটি বার্তা ভেসে ওঠে যেখানে লেখা ছিল— “You’ve been hacked” (আপনারা হ্যাকড হয়েছেন)। শুধু তাই নয়, একটি যান্ত্রিক বা ‘অটোমেটেড’ কণ্ঠস্বরও বারবার একই ঘোষণা দিতে শোনা যায়। প্রাথমিক তদন্ত ও রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘শ্রীধর সার্নোবাত’ এবং ‘শীতজিৎ সিং’ নামে দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওগুলি চালানো হয়েছিল। কোনও  বহিরাগত বা অননুমোদিত ব্যক্তি কীভাবে আদালতের সুরক্ষিত ভার্চুয়াল লিঙ্কে প্রবেশ করে স্ক্রিন শেয়ার করার অনুমতি পেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভার্চুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা মজবুত, এই ঘটনা তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি করেছে। দ্বিতীয়বার বিঘ্ন ঘটার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বলয় ভাঙা হল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে এক্সেস কন্ট্রোল আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দিল্লি হাইকোর্টের ওই নির্দিষ্ট ভার্চুয়াল পোর্টালটি এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাইবার বিশেষজ্ঞরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনাটি বিচারব্যবস্থার গরিমা এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।