আজকাল ওয়েবডেস্ক: অহংকারের লড়াই নাকি বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা? ৯০ বছরের এক বৃদ্ধাকে মানহানির মামলার শুনানির জন্য আরও ২০ বছর অপেক্ষা করার নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। অর্থাৎ, ২০৪৬ সালের আগে এই মামলার ফাইল আর খুলবে না। বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈনের একক বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এই নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ দিয়ে জানিয়েছেন, এটি আসলে একটি ‘ইগোর লড়াই’, যা আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। শ্যাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির ২০১৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারিনিবেন এবং ধ্বনি দেশাই মানহানির মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, সেখানে তাঁদের মানসিক হেনস্থা করা হয়েছে, যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ কোটি টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনও  কিনারা হয়নি। বিচারপতি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই ধরণের জেদ বিচার ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। এর ফলে যাদের সত্যিই দ্রুত বিচার প্রয়োজন, আদালত তাঁদের সময় দিতে পারছে না।

আদালত এর আগে দু’পক্ষকেই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে একটি সামান্য ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই এই বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু ৯০ বছরের ওই বৃদ্ধা মামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় থাকেন। বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, আবেদনকারী একজন ‘সুপার সিনিয়র সিটিজেন’ বা অতি প্রবীণ নাগরিক বলেই এই মামলাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে না। তিনি তাঁর আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, এই মামলা আগামী ২০ বছর আর তালিকায় রাখার প্রয়োজন নেই।

মামলাটির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এটি আগেও একাধিকবার বাধার মুখে পড়েছে। গত বছর মার্চ মাসে অন্য একটি বেঞ্চ সতর্ক করেছিল যে, আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হবে। ২০১৯ সালেও সাক্ষীদের তালিকা জমার সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জট খোলেনি। শেষ পর্যন্ত আদালতের এই নির্দেশে একটি বড় প্রশ্ন উঠে গেল— বিচারপ্রার্থীর জেদ আর বিচার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কোথায় গিয়ে ঠেকে? আপাতত ২০৪৬ সালের সেই দূরবর্তী তারিখের অপেক্ষায় দিন গুনতে হবে এই বয়োবৃদ্ধ আবেদনকারীকে।