আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার সকাল থেকে কেন্দ্রের একটি বিজ্ঞপ্তি ভাইরাল হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ওই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েক মাসে প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান ওয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো সরকারি পরিশোধনাগারগুলিকে পুরনো তেল বিক্রি করতে গিয়ে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই বিপুল ক্ষতি সামাল দিতে ১ মে থেকে পেট্রলের দাম ১০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ১২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দাবিকে এবং বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)।
পিআইবি-র ফ্যাক্ট চেক ইউনিট বুধবার জানিয়েছে এই নির্দেশটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। পিআইবি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার বলেছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি নির্দেশে দাবি করা হচ্ছে যে এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে। সেটিতে বলা হয়েছে যে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ১২.৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।”
পিআইবি স্পষ্টভাবে বলেছে যে, “ভারত সরকার এই ধরনের কোনও আদেশ জারি করেনি।” জনগনকে সবসময় শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই এই ধরনের দাবি যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভুয়ো আদেশটিতে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের বর্ধিত মূল্য এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলির লোকসানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে এতে বিস্তারিত পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ১ এপ্রিল, ২০২৬ অনুযায়ী পেট্রলে প্রতি লিটারে ২৪.৪০ টাকা এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০৪.৯৯ টাকা লোকসান হয়েছে।
ভুয়ো নির্দেশ ভাইরাল হওয়ার মাত্র একদিন আগেই এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছিলেন যে, বুধবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রের নেই। পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলীর প্রভাব নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও প্রস্তাব নেই।”
২০২২ সালের এপ্রিলের শুরু থেকে খুচরো পেট্রল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সময়ে কোনও কোনও মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং কমেছে। যখন দাম কমেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলি বিপুল মুনাফা করেছে, যা তারা দাম বৃদ্ধির সময় লোকসান পুষিয়ে দিয়েছে।















