আজ ২৯ এপ্রিল। ঠিক ছয় বছর আগে আজকের দিনেই থমকে গিয়েছিল চলচ্চিত্র জগৎ। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ইরফান খান। নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি বিদায় নিলেও রেখে গেছেন এক অপার্থিব অভিনয়ের উত্তরাধিকার। তাঁর চোখের ভাষাও যে অভিনয় করতে পারে, তা তিনি প্রতিবার প্রমাণ করেছেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমাদের বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
2
9
তাঁর প্রয়াণ দিবসে ফিরে দেখা যাক সেই কালজয়ী ৫টি অভিনয়, যা তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে:
3
9
১. পান সিং তোমার (২০১২): জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে জয়গান
একজন অ্যাথলিট থেকে দস্যু হয়ে ওঠার এই ট্র্যাজিক জীবনকাহিনি ইরফানের কেরিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ। এই ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। খিদের জ্বালা আর সিস্টেমের অবহেলার বিরুদ্ধে তাঁর সেই ক্ষোভ আজও দর্শকের গায়ে কাঁটা দেয়।
4
9
২. দ্য লাঞ্চবক্স (২০১৩): এক নিঃশব্দ প্রেমের মহাকাব্য
অত্যন্ত শান্ত অথচ গভীর আবেগে ভরপুর এই ছবিতে ইরফান প্রমাণ করেছিলেন যে, কম সংলাপ দিয়েও কীভাবে মন জয় করা যায়। একাকিত্ব এবং চিঠির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত সম্পর্কের গল্পটি তাঁর অভিনয়ে হয়ে উঠেছিল অতি বাস্তব এবং হৃদয়স্পর্শী।
5
9
৩. মকবুল (২০০৩): শেক্সপিয়রের ট্র্যাজেডি যখন মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে
বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় ‘ম্যাকবেথ’-এর আধুনিক রূপান্তর ছিল এই ছবি। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রেম আর অপরাধবোধের জটিল আবর্তে ইরফানের অভিনয় ছিল এককথায় অনবদ্য। এই ছবির মাধ্যমেই তিনি বিশ্বজুড়ে সমালোচকদের নজর কেড়েছিলেন।
6
9
৪. হায়দর (২০১৪): ‘রুহদার’ যখন খোদ অভিনয়ের আত্মা
হায়দার ছবিতে ইরফানের চরিত্রের দৈর্ঘ্য ছিল খুব কম, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি ছিল ছবির প্রাণ। তাঁর সেই রহস্যময় সংলাপ বলার ধরণ— "দরিয়া ভি ম্যায়, দরখত ভি ম্যায়... ম্যায় হু রুহদার"— আজও দর্শকদের মনে প্রতিধ্বনিত হয়।
7
9
৫. হিন্দি মিডিয়াম (২০১৭): হাস্যরসে মোড়া সামাজিক কঠোর সত্য
সামাজিক ব্যঙ্গ বা স্যাটায়ার যে কতটা মনোগ্রাহী হতে পারে, তা ইরফান এই ছবিতে দেখিয়েছিলেন। অভিভাবকত্বের চাপ আর ইংরেজি শিক্ষার দৌরাত্ম্য নিয়ে তৈরি এই ছবিতে তিনি হাসি এবং কান্না—দুটোই ফুটিয়ে তুলেছিলেন সমান সাবলীলতায়। এটি ছিল তাঁর অন্যতম সফল বাণিজ্যিক ছবি।
8
9
ইরফান কেবল ভারতের নন, তিনি ছিলেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের সম্পদ। 'লাইফ অফ পাই' (২০১২) ছবিতে তাঁর পরিণত এবং গভীর বয়ান গল্পটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও 'জুরাসিক ওয়ার্ল্ড', 'ইনফার্নো' এবং 'দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান'-এর মতো হলিউড ব্লকব্লাস্টারে তাঁর উপস্থিতি ছিল ভারতের জন্য গর্বের।
9
9
তাঁর শেষ ছবি ছিল 'আংরেজি মিডিয়াম'। শরীর ভাঙলেও অভিনয়ের তেজ কমেনি বিন্দুমাত্র।ইরফান আজ শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো আজও আমাদের শেখায়— অভিনয় মানে মেকি সাজ নয়, অভিনয় মানে নিজেকে সৎভাবে প্রকাশ।