আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু’দিন আগেই এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে ওডিশা। বোনের মৃতদেহ পচে গলে শুধু কঙ্কালটা আছে। সেই কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ভাই পৌঁছে গিয়েছেন ব্যাঙ্কে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় কাণ্ড। ব্যাঙ্কের কর্মীদের ছ্যাঃ, ছ্যাঃ করছে সকলে। এবার জবাব দিল ব্যাঙ্ক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জিতু মুণ্ডা মদ্যপ ছিলেন। 

ব্যাঙ্ক থেকে নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে জানান, ‘ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার পরে দ্রুত ভাইরাল হয়। মানুষের মনে ধারণা তৈরি হয় মিস্টার মুণ্ডা তাঁর মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে এসেছিলেন কারণ ব্যাঙ্ক দেখতে চেয়েছিল তাই। এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্যাঙ্ক এমন কিছুই কোনও দিন দেখতে চায়নি।’ 

ব্যাঙ্ক আরও জানায়, মৃত ব্যক্তির সমস্ত নথি দেখে ১৯,৪০২ টাকা মৃতের তিনজন উত্তরাধিকারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘সরকারি নথি হাতে পেতেই আমরা টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে তিনজন বৈধ উত্তরাধিকারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে মোট ১৯,৪০২ ভারতীয় টাকা।’ ব্যাঙ্ক আরও জানায়, প্রতিটি গ্রাহককে প্রয়োজনীয় সাহায্য এবং সুব্যবস্থা প্রদান করতে তাঁরা বদ্ধ পরিকর। 

ব্যাঙ্কটি নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানান তাঁর নাম জিতু মুন্ডা। তিনি কেওনঝড়ের দাইনালি গ্রামের বাসিন্দা। দু’দিন আগে হঠাৎই গ্রামীণ ব্যাঙ্কে এসেছিলেন নিজের বোনের কঙ্কাল কাঁধে করে নিয়ে। দাবি তোলেন বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে দিতে হবে। বোন মৃত তা প্রমাণ করতেই তাঁর এই পদক্ষেপ ছিল।

জিতু মুণ্ডার বোন কাকরা মুণ্ডার একটি অ্যাকাউন্ট ছিল ওই ব্যাঙ্কের মল্লিপাসি শাখায়। তিনি দুই মাস আগে মারা যান। তাঁর স্বামী ও একমাত্র সন্তান আগেই মারা গিয়েছিলেন, ফলে জিতুই ছিলেন একমাত্র জীবিত আত্মীয়। জিতু যখন ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তুলতে চান, তখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তাঁকে জানান, যাঁর অ্যাকাউন্ট তাঁকে আসতে হবে অথবা বৈধ উত্তরাধিকারীর নথি দিতে হবে। 

কিন্তু জিতু একজন আদিবাসী মানুষ, তাঁর কোনও শিক্ষা নেই। তাঁর কাছে মৃত্যু সনদ বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাগজপত্র কিছুই ছিল না। জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে না পেরে তিনি অসহায়ভাবে ফিরে যান। এরপর সোমবার তিনি গ্রামের শ্মশানে গিয়ে বোনের দেহাবশেষ মাটি থেকে তুলে কাপড়ে জড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে প্রচণ্ড গরমে ব্যাঙ্কে নিয়ে আসেন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। নেটদুনিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যবহারকারীদের বক্তব্য ব্যাঙ্ককর্মীরা অসংবেদনশীল। ফলে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে এদিন এই দীর্ঘ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে মানুষের ভুল ধারণা ভাঙার জন্য। 

সাধারণ গ্রামবাসীদের কথায়, ‘ব্যাঙ্ক চাইলে গ্রাম প্রধানকে জিজ্ঞেশ করতে পারত, কিম্বা স্থানীয় প্রধান (সরপঞ্চ)-এর সঙ্গে কথা বলে বা সরেজমিনে যাচাই করেও বিষয়টি সমাধান করতে পারত। কিন্তু, মানবিকতার চেয়ে তাঁদের কাছে কাগজপত্র বেশী জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিষয়টিকে মানবিক নজরে দেখা হয়। মৃতাকে পুনরায় যথাস্থানে কবর দেওয়া হয়েছিল।