আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিকে দূষণমুক্ত ও আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এক বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল পলিসি ২০২৬–২০৩০’ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে করছাড়, ভর্তুকি এবং কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই খসড়া নীতিটি আগামী ৩০ দিন জনমত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের জন্য খোলা থাকবে। প্রায় ৩,৯৫৪.২৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তৈরি এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য দিল্লিকে একটি বৈদ্যুতিক যানবাহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
নীতির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল—২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর ১০০ শতাংশ রোড ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি মকুব করা হবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এগুলি কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।
৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়িগুলিও পুরো করছাড় পাবে। তবে ৩০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে কোনও ছাড় থাকবে না। অন্যদিকে, শক্তিশালী হাইব্রিড গাড়ির জন্য ৫০ শতাংশ করছাড়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।
এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধাপে ধাপে ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা। ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ক্ষেত্রে, যার দাম ২.২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে, সেখানে—
প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা
দ্বিতীয় বছরে ২০,০০০ টাকা
তৃতীয় বছরে ১০,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে
ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বা অটো রিকশার জন্য—
প্রথম বছরে ৫০,০০০ টাকা
দ্বিতীয় বছরে ৪০,০০০ টাকা
তৃতীয় বছরে ৩০,০০০ টাকা ভর্তুকি মিলবে
ছোট পণ্যবাহী বৈদ্যুতিক গাড়ি (N1 ক্যাটেগরি) আরও বেশি সুবিধা পাবে—
প্রথম বছরে ১ লক্ষ টাকা
দ্বিতীয় বছরে ৭৫,০০০ টাকা
তৃতীয় বছরে ৫০,০০০ টাকা
পুরনো দূষণকারী যানবাহন সরাতে স্ক্র্যাপিং ভিত্তিক প্রণোদনাও রাখা হয়েছে। স্কুটারের জন্য ১০,০০০ টাকা, অটোর জন্য ২৫,০০০ টাকা, গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা এবং পণ্যবাহী গাড়ির জন্য ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন EV কিনতে হবে।
কাঠামোগত উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। EV ডিলারদের জন্য চার্জিং স্টেশন পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি শহর জুড়ে পাবলিক চার্জিং স্টেশন বাড়ানো, ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থার প্রসার, বাড়ি ও অফিসে চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই পুরো ব্যবস্থার তদারকি করবে দিল্লি ট্রান্সকো লিমিটেড। আর ব্যাটারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে দিল্লি পলিউশন কন্ট্রোল কমিটির উপর, যা ‘ব্যাটারি ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস ২০২২’ অনুযায়ী কাজ করবে। ব্যাটারি ট্র্যাকিং সিস্টেম ও সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবহণ দপ্তর জানিয়েছে, জনমত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে নীতিটি আরও পরিমার্জন করা হবে। দিল্লির পরিবহণমন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানান, এই নীতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
&t=546s
সব মিলিয়ে, এই নতুন পলিসি দিল্লির পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিশা দেখাতে পারে, যদিও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতার উপর।















