আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (এসআইআর) প্রক্রিয়াটি ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ২.০৪ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর তুলনায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বা দুর্গ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
তাছাড়া, রাজ্যের সামগ্রিক ভোটার সংখ্যা ১৩.২৪ শতাংশ কমেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার এই হার গুজরাটের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আকর্ষণীয় বিষয় হল, এসআইআর-এর চূড়ান্ত তথ্যগুলো মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সেই পূর্ববর্তী দাবিকেই প্রতিফলিত করছে, যেখানে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে- এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিজেপির সমর্থক ভোটাররা অত্যধিক হারে বাদ পড়ে যেতে পারে।
রাজ্যের মধ্যে লখনউতেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে সর্বাধিক। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভোটার সংখ্যা ২০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ায় গাজিয়াবাদ জেলা এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এছাড়া কানপুর, নয়ডা এবং মিরাটে ভোটার সংখ্যা কমেছে যথাক্রমে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশের মতো।
পরিসংখ্যান অনুসারে, লখনউ, প্রয়াগরাজ, কানপুর, আগ্রা এবং গাজিয়াবাদ—এই জেলাগুলোতেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে সর্বাধিক।
এর ঠিক বিপরীতে, যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনা অনেক কম। বিজনৌর, মোরাদাবাদ এবং সাহারানপুর- এই জেলাগুলোতে ভোটার সংখ্যা কমার হার ছিল ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে, যা রাজ্যের গড় হারের (১৩.২৪ শতাংশ) চেয়ে অনেকটাই কম।
মুজাফফরনগর জেলায়, যেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই মুসলিম, সেখানেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার রাজ্যের গড় হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে, বিজেপির প্রভাবিত বা গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার গড় হার ছিল ২০ শতাংশেরও বেশি। অথচ মুসলিম-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ।
যদিও সারা দেশজুড়েই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে বিজেপিই ছিল সবচেয়ে সোচ্চার। কেন্দ্রের শাসক দলই এসআইআর-এর বড় সমর্থক। তবুও উত্তর প্রদেশের এই পরিসংখ্যান বা তথ্য হয়তো গেরুয়া শিবিরকে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী কৌশল বা রণকৌশল নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য করতে পারে।















