আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের মাত্র দু’দিন আগে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার জঙ্গলে বড় নকশাল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট জেলার দুর্গম অরণ্য-পর্বত অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষে নিহত হয় সিপিআই (মাওবাদী)-এর এরিয়া কমান্ডার অরুণ ওরফে বরুণ ওরফে নীলেশ মাদকম। তার মাথার ওপর সরকারের ঘোষিত পুরস্কার ছিল ২ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চাইবাসা পুলিশ ও কোবরা ব্যাটালিয়ন-২০৯। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গুলির লড়াইয়ের পর মাওবাদীরা পালিয়ে যায় এবং তাদের একাধিক সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে চারটি এসএলআর রাইফেল, ৫২৭ রাউন্ড গুলি, ন’টি ম্যাগাজিন, একটি এলএমজি ম্যাগাজিন, তিনটি ডেটোনেটর, পাঁচটি ম্যাগাজিন পাউচ, মাওবাদী পোশাক, প্রচারপত্র, ব্যাটারি, জঙ্গল জুতো, বেল্ট এবং অন্যান্য সামগ্রী।
জানা গিয়েছে, এর আগে পুলিশের থেকেই লুঠ করা হয়েছিল এসএলআর রাইফেলগুলি। পশ্চিম সিংভূমের পুলিশ সুপার জানান, গত ১২ আগস্ট গোপন সূত্র মারফত তাদের কাছে খবর আসে, শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিশির বেসরা, অমল, মোচু, অসীম মণ্ডল, অজয় মাহাতো, সাগেন আংরিয়া, অশ্বিন, রবি সারদার, জয়কান্ত, অরুণ, সন্দীপ, শিবা, ঋষিভ, উপ্টান, সনৎ, অমিত মুন্ডা ও ভূনেশ্বর ওরফে সলুকা কায়াম সোমওয়ারী কলহান অঞ্চলে স্বাধীনতা দিবসে বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চাইবাসা পুলিশ, কোবরা ব্যাটালিয়ন-২০৯, সিআরপিএফ ও ঝাড়খণ্ড জ্যাগুয়ার যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান চালায়। গুলির লড়াইয়ে সেখানেই নিহত হয় অরুণ। ঝাড়খণ্ড সরকারের নতুন আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় আত্মসমর্পণকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওপেন জেলে স্থানান্তরের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
নকশালদের উদ্দেশে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। কিছুদিন আগে ছত্তিশগড়ে খতম করা হয় ৩০ মাওবাদীকে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের জোর লড়াই হয়। এরপরই এই ৩০ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যআয়। মৃতদের মধ্যে মাওবাদীদের অন্যতম নেতা নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসব রাজ মৃত্যু হয়েছে বলেই খবর। তার ওপর ১ কোটি টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। নারায়ণপুর জেলাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের জোর সংঘর্ষ বাঁধে। উভয়পক্ষের মধ্যে জোরালো গুলি বিনিময় ঘটে। পুলিশ সূত্রে খবর, এরপরই ধীরে ধীরে মাওবাদীরা পিছু হঠতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের সামনে তারা অসহায় বোধ করতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আগে থেকেই মাওবাদীদের লুকিয়ে থাকার খবর ছিল।
সেইমতো তারা গোটা এলাকা ঘিরে ধরে শুরু করে অপারেশন। নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখামাত্রই গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপরই একের পর এক মাওবাদীর মৃত্যু ঘটতে থাকে। লড়াইতে পার না পেয়ে তারা ধীরে ধীরে পিছু হঠতে থাকে। তবে ততক্ষণে অনেক বেশি দেরি হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শিকার হয়ে বহু মাওবাদী প্রাণ হারিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার দু’সপ্তাহ আগে ছত্তিশগড়ে বিজাপুরে একটি অভিযানে ১৫ জন মাওবাদী মারা যায়। তেলেঙ্গানা সীমান্তের কাছে সেবারে মাওবাদীরা লুকিয়ে ছিল। সেখানেও নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে খুঁজে বের করে খতম করে। এই এলাকা থেকে মাওবাদী খতম করতে বিশেষ গোয়েন্দা টিমকে কাজে লাগিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করেই এই বিরাট সফলতা পেল নিরাপত্তা বাহিনী। মাওবাদী দমনে এই অভিযান টানা চলবে বলেও জানা গিয়েছে।
















