আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিরোধী দল কংগ্রেসকে তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।


দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ আকবর রোডে অবস্থিত কংগ্রেসের জাতীয় সদর দফতর এবং ৫ রাইসিনা রোডে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। এই দুই জায়গাই দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সংগঠন পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চের মধ্যেই এই দুই দফতর খালি করতে হবে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগেই এই নোটিস হাতে এসেছে, ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য খুবই কম সময় পাচ্ছে কংগ্রেস।


এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, আগের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। এক নেতার কথায়, “আমরা আইনি দিক থেকে কী কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখছি। কিন্তু এবার সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়া অবস্থানে রয়েছে।”
এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কংগ্রেস নেতৃত্ব এখন বুঝতে পারছে যে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি ধরে রাখা সহজ হবে না। ফলে দল এখন বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সরকারকে সময় বাড়ানোর আবেদন জানানোও তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।


সূত্রের খবর, কংগ্রেস একটি কৌশলগত পদক্ষেপের কথাও ভাবছে। দলের কোনও শীর্ষ নেতাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তাঁর নামে সরকারি বাংলো বরাদ্দ করানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে ওই সম্পত্তির ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ কার্যকর করতে গেলে দ্রুত রাজনৈতিক এবং আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।


২৪ আকবর রোড শুধু একটি অফিস নয়, বরং কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। বহু দশক ধরে এখান থেকেই দলের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এই জায়গা হারানো মানে শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, বরং একটি ঐতিহ্যগত ও মানসিক ধাক্কাও বটে।


একইভাবে, ৫ রাইসিনা রোড  দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এই দুই দপ্তর হারালে দিল্লিতে কংগ্রেসের কাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 


সব মিলিয়ে, এই উচ্ছেদ নোটিসকে কেন্দ্র করে নতুন করে কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে কংগ্রেস কতটা সফল হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি ধরে রাখতে পারে কি না।