আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মে মাসে অস্বাভাবিক শীতল আবহাওয়া অনুভূত হলেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনের ইঙ্গিত ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত সময়েই, অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহে কেরল উপকূলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।
ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, কেরল এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ভারতের মাটিতে মৌসুমী বায়ুর প্রথম প্রবেশ ঘটে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, আর সেই সময়ও আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে। ভারতের আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি জানিয়েছে, আগামী সাত দিনে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরল এবং মাহে অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। প্রাক-বর্ষার বজ্রঝড়ও তীব্র হতে পারে, যা মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
এদিকে উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতের আবহাওয়াতেও দেখা যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। কোথাও তীব্র গরম, কোথাও আবার আচমকা বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের অস্থির আবহাওয়া সাধারণত বর্ষা আগমনের আগের সময়েই বেশি দেখা যায়।
তবে ভারতের মৌসুমী বায়ুর সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি হয়েছে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অস্ট্রেলিয়ায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটিওরোলজি ঘোষণা করেছে যে ২০২৫-২৬ সালের উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বর্ষাকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি হয়তো শুধুই একটি বিদেশি আবহাওয়ার খবর, কিন্তু আবহাওয়াবিদদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীর নিরক্ষরেখা বরাবর একটি বিশাল অদৃশ্য মেঘ ও বৃষ্টির বলয় রয়েছে, যা প্রতি বছর সূর্যের অবস্থান অনুসরণ করে উত্তর ও দক্ষিণে সরে যায়। এই বলয়ই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা নিয়ে আসে। দক্ষিণ গোলার্ধে অস্ট্রেলিয়ার বর্ষাকাল শেষ হলে সেই বলয়ের দক্ষিণমুখী টান কমে যায়। ফলে সেটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে সরে এসে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে অগ্রসর হয়।
বর্তমানে সেই বলয় ইতিমধ্যেই নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে মালদ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে এবং ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কা ও আন্দামান-নিকোবরের দিকে এগোচ্ছে। এখান থেকেই মৌসুমী বায়ু কেরলের দিকে যাত্রা শুরু করে।
প্রতি বছর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যখন অস্ট্রেলিয়া শুষ্ক থাকে, তখন ভারত পায় বর্ষার বৃষ্টি। আবার সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিস্থিতি উল্টো হয়—ভারতে বর্ষা বিদায় নেয় এবং অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় নতুন বর্ষাকাল। প্রকৃতির এই নিয়মই বছরের পর বছর একইভাবে চলতে থাকে।
&t=136s
এই মুহূর্তে সব আবহাওয়াগত সংকেত ভারতের পক্ষেই রয়েছে। তাই কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের বহু প্রতীক্ষিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যে আর বেশি দূরে নয়, তা কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।















