আবু হায়াত বিশ্বাস: কেরলে বিরাট জয় পেয়েছে কংগ্রেস। ভোটের ফল প্রকাশের ৫ দিন অতিক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী পদে কে, তা বাছতেই পারল না কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে দিল্লিতে চলল তিন ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক। তারপরেও কেরলে দলের মুখ্যমন্ত্রী বাছাতে পারল না হাত শিবির। ফলে কেরলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই প্রশ্নের আপাতত কোনও জবাব দিতে পারছে না কংগ্রেস।
হাইকমান্ডের আস্থাভাজন কেসি বেণুগোপাল, ভিডি সতীশন নাকি রমেশ চেন্নিথালা হবেন মুখ্যমন্ত্রী— তা কেরল থেকে দিল্লি— নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। শনিবার ১০ রাজাজি মার্গের কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী পদের তিন দাবিদার ছাড়াও রাহুল গান্ধী, কেরল কংগ্রেসের সভাপতি সানি জোসেফ, দলের ইন-চার্জ দীপা দাশমুন্সিকে নিয়ে বৈঠক হয়। তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে।
সূত্রের খবর, নব নির্বাচিত বিধায়কদের মতামত ও পর্যবেক্ষকদের দেওয়া রিপোর্ট দেখার পর এদিনের বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মতামতও জেনে নিয়েছেন খাড়গে, রাহুল। জানা গিয়েছে, শিগগিরই কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে। বৈঠকের পর দীপা দাশমুন্সি জানান,‘খুব শিগগিরই হাইকমান্ডের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাব। ২৩শে মে বিধানসভার মেয়াদের শেষ দিন। সুতরাং, ‘যথাসময়ে’ বলতে আমি বোঝাতে চাইছি যে যথাযথ সময়সীমার মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান,‘ দলের সমস্ত বিধায়ক একটি এক-লাইনের প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন, যা হাইকমান্ডকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।’
বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে বিরাট জয় পেয়েছে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন,তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। দু’দিন আগে নবনির্বাচিত বিধায়কদলের বৈঠক হয়। এক লাইনের প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কংগ্রেস হাইকমান্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এআইসিসি পর্যবেক্ষকরা পৃথকভাবে কংগ্রেসের বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের মতামত জানার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হাইকমান্ডকে রিপোর্ট পেশ করেন।
সূত্রের খবর, কে সি বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দলের সিংহভাগ বিধায়ক চান। এছাড়াও কেরলের দলীয় সাংসদদের বড় অংশ কেসি-কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছিলেন। দলের নবনির্বাচিত ৬৩ জন বিধায়কের মধ্যে ৪৭ জন বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। বেণুগোপাল সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর সঙ্গে বিধানসভায় এত দিনের বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন ও প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালাও মুখ্যমন্ত্রীর পদের দাবিদার ছিলেন।
১৪০ আসনের বিধানসভায় ইউডিএফ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর মধ্যে কংগ্রেস ৬৩টি আসন পেয়েছে। বিধায়কদের মত জানতে কংগ্রেস হাইকমান্ড মুকুল ওয়াসনিক ও অজয় মাকেনকে তিরুঅনন্তপুরমে পাঠিয়েছিল। কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতার মতে, ‘হাইকমান্ডের লোক’ হিসেবে দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ধামাচাপা দিয়ে বেণুগোপালের পক্ষে সরকার চালানো সুবিধে হবে। রাহুল গান্ধীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বেনুগোপাল।
তবে গত মার্চে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কংগ্রেস সাংসদদের উদ্দেশে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যেন বিধানসভা নির্বাচনে না লড়েন। সেক্ষেত্রে বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হলে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করতে হবে। এছাড়াও বেণুগোপাল ওই পদ বসলে দুটি নির্বাচন অনিবার্য হয়ে যাবে। এক, তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে এবং কান্নুর লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হবে এবং তাঁকে ৬ মাসের মধ্যে বিধানসভার একটি আসনে জয়ী হয়ে আসতে হবে। ভিডি সতীশনকে বাছা হলে উপনির্বাচনে যেতে হবেনা।















