আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরিয়ানার সরকারি স্কুলগুলির ভয়াবহ পরিকাঠামোগত সঙ্কট। খাতায়কলমে যা বিদ্যালয় বলে পরিচিত, বাস্তবে তা আসলে একটি গোয়ালঘর। এ বার এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল হরিয়ানা মানবাধিকার কমিশন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জেলার সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলির এমন শোচনীয় অবস্থা প্রকাশ্যে আসে। আর তারপরই এ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

 

সূত্রের খবর, হরিয়ানার নুহ জেলার ফিরোজপুর ঝিরকা এলাকার একাধিক সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতেই এই বেহাল চিত্র। বেশির ভাগ গ্রামের স্কুলগুলিরই কোনও নিজস্ব স্থায়ী ভবন নেই। বিভিন্ন গ্রামেই শ্রেণিকক্ষের অভাবে কোথাও খোলা আকাশের নীচে চলছে প্রাথমিকের ক্লাস। স্কুলবাড়ির বদলে খালি মাঠে, আবার কোথাও মাটিতে মাদুর পেতে পড়ুয়াদের ক্লাস করানো হচ্ছে। এর মধ্যে কুদবা বাস গ্রামের সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ক্লাস হচ্ছে গোয়ালঘরে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৬২ জন এ ভাবেই নিয়মিত ক্লাস করছে। এর মধ্যে ২৯ জন ছাত্র, ৩৩ জন ছাত্রী। স্কুলের কোনও নিজস্ব স্থায়ী ভবন নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দার ব্যক্তিগত জমিতে অনুমতি নিয়েই চলছে ক্লাস। স্কুল ছুটির পর ওই একই জায়গায় গরু এবং মহিষ বেঁধে রাখা হয়। মজুত করা হয় পশুখাদ্যও। প্রতিদিন স্কুল শুরুর আগে ফের জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়। তবে তারপরেও গোবরের তীব্র দুর্গন্ধ নাকে আসে। যা আদতে শিশু স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে। অন্যদিকে, কালুবাসের একটি স্কুলে গাছের সঙ্গে ব্ল্যাকবোর্ড বেঁধে খোলা মাঠে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বহু স্কুলে নেই শৌচাগার, পানীয় জল কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষকও।

 

কমিশনের পর্যবেক্ষণ, এই পরিস্থিতি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদার অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে নুহ জেলার ফিরোজপুর ঝিরকা এলাকার বহু সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এখনও পর্যন্ত ন্যূনতম পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ ২০২০ সালেই ওই জেলায় ৬৮টি নতুন স্কুল অনুমোদিত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, কমিশন জানিয়েছে, এই অবস্থা শিশুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। যা দেশের শিক্ষার অধিকার আইন বিরোধী। কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি ললিত বাত্রার নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ রাজ্যের শিক্ষা দফতরের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, তা-ও কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া, কমিশন স্কুলগুলিতে শিক্ষক সঙ্কট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের। গড়ে তুলতে হবে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ। যে সমস্ত স্কুলে শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে সেখানে স্থানীয় বা পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষকদের ক্লাস করাতে হবে।