আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণী রাজনীতির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসতে চলেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়। রবিবার, ১০ মে সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

 

২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচন ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক থ্রিলার। নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮-এর ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে ছিল। গত চার দিন ধরে চলে দফায় দফায় বৈঠক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর। অবশেষে ভিসিকে (VCK), আইইউএমএল (IUML), কংগ্রেস এবং বাম দলগুলোর নিঃশর্ত সমর্থনে বিজয়ের জোট ১২০-এর গণ্ডি স্পর্শ করে। এর পরেই শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান বিজয়। রাজ্যপাল তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন।

 

স্বাধীনতার পর থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতি মূলত কংগ্রেস, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রথমবারের মতো এই দুই বড় দ্রাবিড় শক্তিকে সরিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ ক্ষমতায় এল। বিজয়ের এই উত্থানকে অনেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর (MGR) বা এনটি রামা রাওয়ের (NTR) রাজনৈতিক অভিষেকের সঙ্গে তুলনা করছেন। বিজয়ের দল উত্তর তামিলনাড়ু ও চেন্নাইয়ের ১৬টির মধ্যে ১৪টি আসনেই দাপট দেখিয়েছে। এমনকি কোলাথুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন।

 

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকার ডিএমকে জমানার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখবে। এদিকে চেন্নাই জুড়ে এখন উৎসবের মেজাজ। বিজয়ের সমর্থক ও দলের কর্মীরা স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় জমিয়েছেন। সোমবার থেকেই হয়তো নবান্নের আদলে তামিলনাড়ু প্রশাসনেও বড়সড় রদবদল ও নতুন কর্মপরিকল্পনার আভাস মিলবে।