প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পুষ্টি উপাদান। শরীরের পেশি গঠন, হাড় মজবুত রাখা, ক্ষত সেরে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো-সব কিছুর জন্যই প্রোটিন প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সব বয়সে প্রোটিনের চাহিদা এক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনও বদলায়। ঠিক কোন বয়সে কতটা প্রোটিন দরকার, জেনে নিন-
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ হওয়া উচিত প্রায় ০.৮ গ্রাম। অর্থাৎ একজন ৭০ কেজি ওজনের মানুষকে দৈনিক প্রায় ৫৬ গ্রাম প্রোটিন খাওয়াই যথেষ্ট। তবে অনেকেই ‘বডি বিল্ডিং’ বা ‘ফিটনেস ডায়েট’ এর নাম করে এই পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন খেয়ে থাকেন। এমনকী অনেকে শরীরের প্রতি পাউন্ড ওজনে এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের ওপর চাপ বাড়ায়। তবে বয়স অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদার হেরফের হয়।
শিশুদের শরীর দ্রুত বাড়ে, তাই তাদের প্রোটিনের দরকার তুলনামূলক বেশি। ৪-৮ বছর বয়সিদের দিনে প্রায় ২০–২৫ গ্রাম এবং ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সে দিনে প্রায় ৩০–৩৫ গ্রাম প্রোটিন দরকার। কিশোর বয়সে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয়, পেশি ও হাড় দ্রুত গড়ে ওঠে। সেই অনুযায়ী ১৪–১৮ বছর বয়সে ছেলেদের প্রোটিন প্রয়োজন প্রায় ৫০–৫৫ গ্রাম এবং মেয়েদের প্রয়োজন প্রায় ৪৫–৫০ গ্রাম। এই সময় ডিম, দুধ, ডাল, মাছ, বাদাম নিয়মিত খাওয়া খুব জরুরি।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সে শরীরের কাজের চাপ বেশি থাকে। যারা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের আরও বেশি প্রোটিন দরকার। পুরুষদের দিনে গড়ে ৫৫–৬০ গ্রাম এবং মহিলাদের দিনে গড়ে ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন দরকার। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রোটিনের চাহিদা আরও বেশি হয়।
৬০ বছরের পর শরীরের পেশি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই এই বয়সে প্রোটিন না খেলে দুর্বলতা, পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ও নানা রোগ বাড়ে। বয়স্কদের জন্য প্রোটিনের পরিমাণ হওয়া উচিত শরীরের ওজন প্রতি কেজিতে ১–১.২ গ্রাম অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজন হলে দিনে ৬০–৭২ গ্রাম প্রোটিন দরকার।
প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডায়েটে যে সব রাখবেন, তা হল
ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, পনির, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম ও বীজ। প্রোটিন নিঃসন্দেহে শরীরের জন্য জরুরি, কিন্তু ‘অতিরিক্ত ভালও খারাপ হতে পারে’-এই প্রবাদ এখানেও সত্যি। তাই শুধু বেশি প্রোটিন নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
