২০২৬ সালের শুরুতে ভারতে মুক্তি পেতে চলেছে হলিউড থ্রিলার ‘দ্য হাউসমেড’। তবে আন্তর্জাতিক দর্শক যে এই বহুল আলোচিত ছবির যে সংস্করণটি দেখেছেন, ভারতীয় দর্শকের সামনে তার থেকে বেশ খানিকটা ভিন্ন রূপেই হাজির হবে ছবিটি। দেশের সেন্সর বোর্ড সার্টিফিকেশন এ ছবিটির বিভিন্ন জায়গায় কাঁচি চালিয়েছে বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তনের পর্যন্ত নির্দেশ দিয়েছে।

জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি ও অ্যামান্ডা সেফ্রিড অভিনীত এই ছবিটি পশ্চিমি বাজারে গত ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। সাসপেন্সধর্মী গল্প ও প্রধান দুই অভিনেত্রীর অভিনয়ের জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে ‘দ্য হাউসমেড’। তবে ভারতীয় মুক্তির আগে ছবিটি খতিয়ে দেখে সেন্সর বোর্ডের পরীক্ষক কমিটি। সেই পর্যালোচনার পর ৪ ডিসেম্বর ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তবে শর্তসাপেক্ষে।
সূত্রের খবর, সেন্সর বোর্ড ছবিটি থেকে ৮ মিনিটেরও বেশি সময়ের নগ্ন ও অতি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে ছবিতে অভিনেত্রী সিডনি সুইনির একাধিক অন্তরঙ্গ দৃশ্য - যার মধ্যে একটি দীর্ঘ যৌনতার সিকোয়েন্স ছিল এবং সম্পূর্ণ নগ্নতা। ছবির ভারতীয় সংস্করণে এইসব দৃশ্য সম্পূর্ণভাবে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদ দেওয়া হয়েছে অ্যামান্ডা সেফ্রিডকে ঘিরে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং একটি দৃশ্য যেখানে তাঁকে ব্রেস্ট পাম্প করতে ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এছাড়াও ছবিতে থাকা কিছু অশালীন শব্দ সম্পূর্ণভাবে মিউট করার নির্দেশ দেয় সেন্সর বোর্ড। তবে লক্ষণীয় বিষয়, ছবির একটি সংক্ষিপ্ত দৃশ্যে পুরুষ প্রধান চরিত্র ব্র্যান্ডন স্ক্লেনারের নিতম্ব সম্পূর্ণ দৃশ্যমান থাকলেও সেটি কিন্তু বাদ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি বোর্ড।মূলত ১৩১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ছবিটি ভারতীয় সংস্করণে দাঁড়িয়েছে ১২৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে। এই সময়ের মধ্যে সেন্সর কাটের পাশাপাশি যোগ হয়েছে বাধ্যতামূলক অ্যান্টি-স্মোকিং বার্তাও।
‘দ্য হাউসমেড’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক নারীকে কেন্দ্র করে, যিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে এক ধনী পরিবারের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে শুরু করেন, ওই বাড়িতে তাঁর নিরাপত্তা আদৌ নিশ্চিত নয় এবং এখান থেকেই গল্প নেয় টানটান সাসপেন্সের রূপ।
যাঁরা ইতিমধ্যেই সেন্সরকৃত ভারতীয় সংস্করণটি দেখেছেন, তাঁদের মতে, ব্যাপক কাটছাঁট সত্ত্বেও ছবির মূল গল্প ও থ্রিলার ঘরানার আবেদন অনেকটাই অক্ষুণ্ণ রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করলে অভিজ্ঞতা যে আলাদা হবে, তা বলাই বাহুল্য।
এর আগেও একাধিক বিদেশি ছবির ক্ষেত্রে নগ্নতা ও স্পষ্ট ভাষা নিয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্সর বোর্ড। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ছে ‘দ্য হাউসমেড’। ফলে ভারতীয় দর্শককে প্রস্তুত থাকতে হবে এমন এক সংস্করণের জন্য, যেখানে ইঙ্গিত থাকবে, কিন্তু অনেক দৃশ্যই থেকে যাবে পর্দার বাইরে।
