এক সময় বলিউডের নয়া প্রজন্মের উজ্জ্বলতম তারকাদের অন্যতম ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ২০২০ সালের ১৪ জুন আচমকাই থেমে গিয়েছিল তাঁর জীবন। খুব তাড়াতাড়িই চলে গিয়েছিলেন তিনি! এমন এক সময়, যখন সামনে ছিল আরও অনেক পথ, আরও অনেক গল্প। তবু জীবন থেকে বিদায় নেওয়ার আগে সুশান্ত রেখে গিয়েছিলেন অগণিত স্মৃতি আর কিছু গভীর জীবনবোধ, যা আজও তাঁর ভক্তদের কাছে সমানভাবে অনুপ্রেরণার।

আজ, সুশান্ত সিং রাজপুতের ৪০তম জন্মবার্ষিকীতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ‘২০১৬ ট্রেন্ড’-এর আবহে ফিরে দেখা যাক এক দশক আগের সেই সময় যখন তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিজের কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ (২০১৬)-র জন্য। সেই সময়ই, নিজের পঞ্চম বলিউড ছবির প্রচারে দেওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সুশান্ত জানিয়েছিলেন, কিংবদন্তি ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তাঁর কোথায় মিল।

২০১৬ সালে, ছবির মুক্তির ঠিক কয়েক দিন আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুশান্ত ফিরেছিলেন ধোনি চরিত্রে শুটিংয়ের প্রথম দিনের স্মৃতিতে। দীর্ঘ মাসের প্রশিক্ষণের পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “শুটিংয়ের প্রথম দিনটায় অভিনয়ের ভান কম ছিল। কারণ আমি তখন বদলে গিয়েছিলাম। আমার মাথার ভেতরে তখন, শুটিংয়ের সময় আমি ধোনিই ছিলাম।”

 

ধোনির সঙ্গে নিজের মানসিকভাবে মিলের কথাও অকপটে তুলে ধরেছিলেন সুশান্ত। তাঁর কথায়, “ধোনি আর আমি দু’জনেই বর্তমানে যা করছি, সেটাতেই এতটা ডুবে থাকি যে ভবিষ্যৎ নিয়ে বসে ভাবি না। যখন আপনি কোনও কাজকে ভীষণ ভালবাসেন, তখন সেটাই আপনার সমস্ত মনোযোগ দাবি করে। তখন ভয় বা কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আপনার অভিজ্ঞতাকে বিকৃত করতে পারে না।”

দিশা পাটানি, কিয়ারা আদবানি ও অনুপম খের অভিনীত ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনয়জীবনে এক মাইলস্টোন হয়ে উঠেছিল। ধোনির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক দু’পক্ষের কাছেই বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ঝুলিতে এসেছিল একাধিক পুরস্কারও।

শুধু তাই নয়, ছবিতে ধোনির ব্যক্তিত্ব, আচরণ, শরীরী ভাষা এবং সেই আইকনিক ‘হেলিকপ্টার শট’ যেভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন সুশান্ত তাতে মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং মহেন্দ্র সিং ধোনিও। তিনি প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন অভিনেতার পরিশ্রম ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের।

 

যেমনটা আগেও বলা হয়েছে, সুশান্ত সিং রাজপুত ছিলেন বলিউডের সেই বিরল প্রতিভাদের একজন যাঁদের আলো খুব অল্প সময়ের জন্য জ্বলে উঠেছিল, কিন্তু যার দীপ্তি আজও অমলিন। তিনি হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, চিন্তা আর স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে দর্শকদের হৃদয়ে।