২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেই ‘বিতর্কিত’ প্রতিশ্রুতি আজও তাড়া করে বেড়ায় পুনম পাণ্ডেকে। মহেন্দ্র সিং ধোনিরা বিশ্বকাপ জিতলে তিনি নগ্ন হওয়ার যে ঘোষণা করেছিলেন, দীর্ঘ বছর পর সেই ঘটনার নেপথ্য কাহিনী এবং নিজের পরিবারের রোষানলের কথা সামনে আনলেন এই মডেল-অভিনেত্রী।

২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আর পুনম পাণ্ডেকে আলাদা করা দায়। গ্ল্যাডরাগস বা কিংফিশারের মডেল হিসেবে তখন তিনি সবে কেরিয়ার শুরু করছেন। সেই সময় হঠাৎই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পুনম আচমকা ঘোষণা করেছিলেন, ধোনিরা কাপ জিতলে তিনি প্রকাশ্যে নগ্ন হবেন। ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল, আর তার সঙ্গেই পুনমের সেই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল দেশজুড়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঝোড়ো দিনগুলোর ব্যক্তিগত স্মৃতি হাতড়ালেন পুনম।

 


পুনম স্বীকার করেছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ায় জায়গা করে নেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন তিনি। নিজের প্রচার করা অথবা বলিউডের অন্দরে কী করে ঢুকে পড়তে হয়, তা নিয়ে কোনও ধারণা না থাকায় নিজের জন্মদিনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মাঝেই মাথায় আসে এই ‘আইডিয়া’। পুনমের কথায়, “আমি জানতাম না এই ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে ঢুকতে হয়। অনেকটা ছেলেমানুষি করেই নিজের মাথায় ওই কনসেপ্টটা তৈরি করেছিলাম।” 

 

এহেন বিস্ফোরক ঘোষণার জেরে ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর মুহূর্তের মধ্যে ট্রেন্ডিং হয়ে যান পুনম। সবার চোখ খুঁজছিল তাঁকেই। কিন্তু গ্ল্যামারের আড়ালে তাড়া করে আসছিল আইনি জটিলতা। দেশজুড়ে একাধিক মামলা শুরু হয় তাঁর বিরুদ্ধে। পুনম জানান, “আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। একদিকে মামলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি কীভাবে পালন করব সেটা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে তিনি বিসিসিআই -এর কাছে অনুমতি পর্যন্ত চেয়েছিলেন প্রকাশ্যে নগ্ন হওয়ার, যা স্বভাবতই খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশ্যে বিতর্ক চললেও পুনমের বাড়ির ভিতরের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। পুনম তাঁর পরিবারকে এই মন্তব্যের কথা আগে জানাননি। পরদিন সকালে খবরের কাগজে মেয়ের ছবি ও খবর দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান তাঁর বাবা। পুনম বলেন, “বাবা খবরটা দেখে বীভৎস রেগে গিয়ে আমায় কষিয়ে চড় মেরেছিলেন। বাড়িতে একটা প্রবল অশান্তি শুরু হয়। বাবা-মা বলেছিলেন—ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়ে হয়ে তুই এ কী বললি? সমাজের কাছে মুখ দেখাব কী করে? তোর বিয়ে হবে কী করে?”

আজকের পুনম অনেক পরিণত। তাই তো তিনি স্বীকার করেন, সেই একরাতের বিতর্ক তাঁকে রাতারাতি পরিচিতি দিলেও, তার ফল যে এতটা মারাত্মক হতে পারে—সেটা তিনি তখন তিলমাত্র বোঝেননি।