জন্মদিনে আশাকে ঝাঁটা উপহার দিয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মন, রাগ থেকে অনুরাগে পঞ্চম সুর মিলল কীভাবে?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ : ১৪
শেয়ার করুন
1
23
গানই ছিল তাঁদের সম্পর্কের ভিত৷ গানের টানেই সমাজ সংসার লোকলজ্জা কোনও কিছুর পরোয়া না করে এক হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে আর রাহুল দেব বর্মন।
2
23
যদিও এই প্রেম রূপকথার মতো ছিল না কখনও। ভারতীয় তথা বিশ্বসঙ্গীতের ইতিহাসে সুরের জাদুতে কণ্ঠের মায়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মোহাচ্ছন্ন করে রাখার এই দুই কারিগর ভালবাসতেন কেবল সুর৷
3
23
মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহারা হন আশা৷ বাবার পরিচিত মাস্টার বিনায়ক, ছোট্ট আশাকে পরিচয় করালেন সিনে দুনিয়ার সঙ্গে। ১৯৪৩ সালে ১০ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমা 'মাজা বাল' সিনেমায় 'চলাচল নওবালা গান' দিয়ে সঙ্গীতজগতে পদার্পণ করলেন আশা ভোঁসলে৷
4
23
মাঝে চলে গিয়েছে অনেকগুলো বছর৷ সুরের আকাশে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই আশার৷ দিদি লতা মঙ্গেশকরের মতন কন্ঠস্বর হওয়ায় নিজেকে ভেঙেচুরে তৈরি করলেন আশা৷ ওপি নাইয়ারের সুরে গান গেয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেন আশা৷
5
23
বলিউডে রয়্যালটি বিবাদ চলাকালীন শচীন দেব বর্মনের সঙ্গেও লতা মঙ্গেশকরের বিবাদ হয়। গান গাইলেন না লতা৷ এই সময় ছোড় দো আঁচল, হাল ক্যায়সা হ্যায়, রাত আকেলি হ্যায়, আচ্ছা জি ম্যায় হারই চলো একের পর এক হিট গানে আশা ভোঁসলে মন জিতে নিলেন শ্রোতাদের৷
6
23
১৯৬৫ সালে শচীন দেব বর্মনের গানের সূত্রে দেখা হল রাহুল দেব বর্মন আর আশা ভোঁসলের৷ যদিও এর আগেই রাহুল দেব বর্মন দেখেছেন আশাকে৷ কিন্তু আশা মোটেই পছন্দ করতেন না পঞ্চমকে৷
7
23
১৯৬৬ সালে রাহুল দেব বর্মন 'তিসরি মঞ্জিল' ছবির জন্য গান গাওয়ালেন আশা ভোসলেকে৷ ও মেরে সোনা রে সোনা, আজা আজা ম্যায় হু প্যায়ার তেরা, ও হাসিনা জুলফো বালে জানে যাঁহা, তুমনে মুঝে দেখা হোকর ম্যাহেরবাঁ এই সব সুর আর গানের মাঝেই আশার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিলেন রাহুল দেব বর্মন।
8
23
হিন্দি সঙ্গীতের ইতিহাসে সৃষ্টি হল নতুন জুটি৷ ভারতীয় সঙ্গীতের ধারায় এল পাশ্চাত্য সঙ্গীতের অনুরণন, সুরের ছোঁয়ায় রঙ লাগল দু'জনের মনে।
এক দিন যখন রাহুল দেব বর্মন আর মজনু সুলতান পুরী এসেছেন আশার বাড়িতে৷ তখনই একগুচ্ছ গোলাপ এসে হাজির। গোলাপ দেখেই রেগে গেলেন আশা।
11
23
কে রোজ রোজ এসব পাঠায়, এখনই ফেলে দাও বোকার হদ্দ যত, এসব বলতেই রাহুল দেব বর্মনের মুখের চেহারা গেল বদলে। মজনু সুলতান পুরী তখন রাহুল দেব বর্মনকে দেখিয়ে আশাকে বললেন 'এই সেই বোকার হদ্দ'৷
12
23
গোপন কথা আর গোপন রইল না৷ এরপর রাহুল দেব বর্মন বিয়ের প্রস্তাব দিলেন আশাকে৷ কিন্তু প্রথম বিয়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি আশা৷ তাই রাজি হতে পারলেন না৷
13
23
রাহুল দেব বর্মনও নাছোড় প্রেমিক৷ বলে বসলেন, বিয়ে করলে আশাকেই করবেন। দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষার পর ১৯৮০ সালে রাহুল দেব বর্মন আর আশা ভোঁসলে বিয়ে করলেন৷
14
23
আশির দশকে বিবাহবিচ্ছিন্না, তিন বাচ্চার মা, তার থেকে ৬ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন আশা ভোসলে৷ এই বিয়েই খুশি এনে দিল আশার জীবনে৷
15
23
আশার সঙ্গে পঞ্চমের ছিল খুনসুটির সম্পর্ক। সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন আশা ভোঁসলে, তিনি অত্যন্ত সাধারণ, খাবার বানাতে খুব ভাল লাগে৷
16
23
পঞ্চমের সংসারেও আশা ছিলেন সেই সাধারণ গৃহকর্ত্রী৷ যিনি রান্না করতেন, ঘর পরিস্কার করতেন, ঘরকন্না সামলে গানও গাইতেন৷ পরিস্কার করতে ভালবাসতেন বলে আশার জন্মদিনে ফুলের তোড়ার সঙ্গে ঝাঁটাও দিলেন পঞ্চম৷ এমনকি সোনার গয়নার সঙ্গেও জুড়ে দিলেন ঝাঁটা৷
17
23
তাদের সম্পর্কের ভিত ছিল সঙ্গীত। রাহুল দেব বর্মন প্রতিনিয়ত যে পরীক্ষানিরীক্ষা করতেন শব্দ নিয়ে, সুর নিয়ে, সেই পরীক্ষানিরীক্ষাকেই বাস্তবে রূপায়ণ করতেন আশা
18
23
রাহুল দেব বর্মন আশা ভোঁসলে জুটি যেমন হিট হয়, তেমনই তাঁদের গান নিয়ে হয়েছিল চূড়ান্ত বিতর্ক৷ ইনা মিনা ডিকা গাওয়ার পর তাঁর গান নিয়ে কটাক্ষ শুরু হয়৷ পাশ্চাত্যের গানে এই ধরনের সুর ভাল লাগলেও ভারতীয় গান এমন হতে পারে না৷ এই দাবি উঠলেও আশা ভোঁসলে ভেঙে পড়েননি, দমে যাননি৷
19
23
'না' শব্দ তাঁর ডিকশিনারিতে নেই। তাই গায়কী বদলালে কটাক্ষ যতই আসুক, নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলেন আশা৷
১৯৭১ এর গান পিয়া তু আব তো আজা,
সেই সময়ের প্রেক্ষিতে শুধু নয়, আজকের দিনেও ভারতীয় সঙ্গীতে আধুনিকতা এবং প্রাসঙ্গিকতার সমার্থক এই গান। সেই সময় এই গান অশ্লীল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। রেডিওয় এই গানের সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়েছিল৷
জ্যাজ, ল্যাটিন আমেরিকান, সাউথ আমেরিকান, আফ্রিকান গানের সঙ্গে আশা ভোঁসলেকে পরিচয় করিয়েছিলেন রাহুল। ইংরাজি না বুঝেও বব ডিলানের সঙ্গে গান গেয়েছেন আশা৷
22
23
সুরের দুই জাদুকর এখন নক্ষত্রলোকের বাসিন্দা৷ কিন্তু তাঁদের সুরের জাদু থেকে যাবে প্রকৃতির আপন সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে৷ জীবনের সা রে গা মা পেরিয়ে ফিরে ফিরে আসবেন আশা ভোঁসলে রাহুল দেব বর্মন জুটি৷
23
23
এই পৃথিবীতে যতবার প্রেম হবে, যতবার এক উদ্দাম কিশোর লাজুক কিশোরীর হাতটা ধরবেন ততবার অন্তরীক্ষে পঞ্চম গেয়ে উঠবেন ফিরে এলাম দূরে গিয়ে... আশাও হয়তো বলবেন আমি তোমার...