শেষের মুখে ১৪৩২। শেষ কিছু ঘণ্টা বাকি এই বছরের। তারপরই হালখাতা, নতুন ক্যালেন্ডারের সুবাস মেখে হাজির হবে ১৪৩৩। বাংলা নতুন বছরের পরিকল্পনা কী আজকাল ডট ইনকে জানালেন খরাজ মুখোপাধ্যায়।
এবারের নববর্ষের পরিকল্পনা জানিয়ে খরাজ মুখোপাধ্যায় বলেন, "কাল একটা শো ছিল, সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই শো অনুমতি না পাওয়ার কারণে হচ্ছে না। ফলে একটু ফাঁকা হয়ে গেলাম। সময় পেলাম। বাড়িতে সবাই মিলে এনজয় করব। ছেলের (বিহু মুখোপাধ্যায়) জন্মদিন গেছে গত ১২ তারিখে (১২ এপ্রিল)। আত্মীয়-স্বজনরাও বাইরে ছিলেন। তাঁরাও আসছেন। ফলে এদিন একাধারে ছেলের জন্মদিনের আনন্দ হবে এবং সঙ্গে পয়লা বৈশাখ, দু'টোই উদযাপন করা হবে। ইলিশ মাছও হবে, চিংড়ি মাছও হবে। বিভিন্ন ধরনের মেনু থাকবে।"
নববর্ষ কথাটা শুনলেই কী মনে পড়ে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের? অভিনেতা বললেন, "নববর্ষ... এই দিনে সত্যি কথা বলতে, দেশের বাড়িতে থাকলে তার একটা অন্যরকম মজা আছে। বাংলায় কথা বলার বিষয়টা তো হারিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। লোকে পুরোপুরি কিছুতেই একটা লাইন সুস্থ বাংলায় বলছে না। পারে না। দেশের বাড়িতে থাকলে সেটা একটু বেশি বলা যায়। আর দেশের বাড়ির কথা এলে, হালখাতা কথাটা আসে নববর্ষের সময়। যাঁরা ব্যবসা করেন তাঁরা হালখাতা করেন। বাবা যখন ছিলেন বেঁচে, উনি আইনজীবী ছিলেন, তাঁর ক্লায়েন্টরা এদিন সবাই মিষ্টি পাঠাতেন। বাবা চলে যাওয়ার পর সেটা হয় না। কিন্তু আমার অনেক বন্ধুরা এখন ব্যবসায়ী, তাঁরা হালখাতা করেন। মিষ্টি পাঠান। বিকেলে গান বাজনা হয়।"
নববর্ষের দিনের ছোটবেলার কোন স্মৃতিকে খুব মনে পড়ে এখন? বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায়, "পদ্মপুকুরের ওখানে বিরাট বড় করে চড়কের মেলা বসত। এক সপ্তাহ ধরে সেই মেলা চলত। আমাদের বাড়িতে সমস্ত ওই পুতুল বা অন্যান্য বিক্রেতারা ঝুড়ি, ইত্যাদি রাখতেন। আমরা শর্ত দিতাম আমাদের পুতুল দিতে হবে একটা করে। ওঁরা বলতেন ঠিক আছে, মেলার শেষে একটা করে পুতুল দেব। ওই আনন্দেই আমরা থাকতাম। মা বলতেন, পড়াশোনা করে নে, তাহলে মেলায় নিয়ে যাব। আমরাও ওই লোভে পড়ে নিতাম। রাতে মেলায় গিয়ে পাঁপড়, ফুচকা, এটা ওটা খেতাম। ঘুরতাম। নাগরদোলা চড়তাম। নকল গোঁফ দাড়ি পাওয়া যেত, কিনতাম। ম্যাজিক দেখানো হতো, ওখান থেকে সেগুলো দেখে শিখে আসতাম। এগুলো সব সুখস্মৃতি।"















