আশা ভোঁসলে আর আর.ডি. বর্মন (পঞ্চম) - এই দুটি নাম একে অপরের পরিপূরক। গত ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে আশা তাই-এর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই শোকের আবহে বারবার ফিরে আসছে ১৯৯৪ সালের ৪ঠা জানুয়ারির সেই অভিশপ্ত সকালের কথা। যেদিন রাহুল দেব বর্মন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন আশা ভোঁসলের অবস্থা কেমন ছিল? সাংবাদিক অমিতাভ মেমনের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে সেই রুদ্ধশ্বাস যন্ত্রণার মুহূর্ত।

 

১৯৯৪ সালের সেই ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পঞ্চম। মেমনের বই অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিলেন আশা। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তিনি পঞ্চমের নিথর দেহ রাখা ঘরে ঢুকতে অস্বীকার করেছিলেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে গায়িকা তখন বলেছিলেন, “ম্যায় উস কামরে মে নেহি যাউঙ্গি। ম্যায় উসে মরা হুয়া নেহি দেখ সকতি। ম্যায় উসে জিন্দা দেখনা চাহতি হুঁ।” ( অর্থাৎ আমি ওই ঘরে যাব না। ওকে মৃত অবস্থায় দেখতে পারব না আমি। আমি ওকে আজীবন জীবন্ত হিসেবেই মনে রাখতে চাই।)

প্রিয় মানুষের নিথর দেহ দেখার বদলে তাঁর হাসিমুখের স্মৃতি আঁকড়েই বাকি জীবনটা কাটাতে চেয়েছিলেন আশা। সেই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা প্রতিবেশী গুলজার। তিনিই সামলেছিলেন শোকাতুর আশা-কে।


আশা এবং আর.ডি. বর্মনের প্রেম শুধু চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্টুডিওর ভেতরে তাঁদের জুটি ছিল অপ্রতিরোধ্য। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘পিয়া তু আব তো আজা’, কিংবা ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’, তাঁদের হাত ধরেই বলিউড পেয়েছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। রোমান্টিক মেলোডি হোক বা দ্রুত লয়ের গান, আশা-পঞ্চম জুটি ছিল সব সময়ের জন্য সেরা। ১৯৮০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে আমৃত্যু তাঁরা একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না, কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি করা শত শত কালজয়ী গানই তাঁদের উত্তরসূরি হয়ে রয়ে গিয়েছে।

নেটপাড়ার একাংশ শোকের সঙ্গে মিশিয়েছেন নিজেদের আবেগ-কল্পনার রং। তাঁদের আশা, মেঘের ওপারে আবারও হয়তো মিলন হল এই কিংবদন্তি জুটির। পঞ্চম যেখানেই থাকুন, আশা তাই হয়তো আবারও গিয়ে তাঁর সুরেই গলা মেলাবেন।