দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলার নতুন বছর। রাত পোহালেই শুরু ১৪৩৩। বিয়ের পর এটাই রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলির প্রথম নববর্ষ। কী কী পরিকল্পনা, কী উপহার পেলেন সবটাই আজকাল ডট ইনকে জানালেন রণজয় বিষ্ণু। 

নববর্ষের পরিকল্পনা জানিয়ে রণজয় বলেন, "শুটিং। ওর শুটিং নেই। আমার আছে। রাতে আমাদের সকলের একসঙ্গে একটা গেটটুগেদার করার কথা, সেখানে আমার কিছু বন্ধুবান্ধবও থাকবে।" কিন্তু তাঁদের দু'জনের আলাদা কোনও পরিকল্পনা নেই? এই বিষয়ে অভিনেতা বললেন, "আমরা জীবনটাকে কখনই অভাবে দেখি না। আমরা দু'জন যখন একসঙ্গে থাকি, আমরা দু'জনে দারুণ মজায় থাকি। এত আনন্দ নিজেদের মধ্যে বিভোর হয়ে থাকি যে আমাদের সবটা খুব স্পেশ্যাল হয়। এবং এটা কখনও চেঞ্জ হবে না।" প্রসঙ্গত রণজয় বিষ্ণু 'কোন গোপনে মন ভেসেছে'-এর পর 'প্রতিজ্ঞা' ধারাবাহিকের হাত ধরে ছোটপর্দায় ফিরলেন। স্টার জলসার এই নতুন ধারাবাহিকের শুটিংয়ে বর্তমানে ব্যস্ত তিনি। 

এবার কি উপহার পেলেন রণজয়? "এই নববর্ষের সবথেকে বিশেষ উপহার হচ্ছে শ্যামৌপ্তির প্রথম ছবি আসছে, 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড', তার টিজার এল আজকে। ওকে এত ভাল লাগছে.... আর আমার সব থেকে ভাল লেগেছে থাম্বনেলে ওর ছবিই আছে। এটা দেখে খুব মজা পেয়েছি। এটাই আমার এবারের নববর্ষের  সেরা উপহার", জানালেন গুড্ডির নায়ক।

ছোটবেলায় নববর্ষ কেমন কাটত? স্মৃতি হাতড়ে রণজয় বলেন, "ফিরে পাওয়া যদি হয় তাহলে... আমার মাকে মিস করি। এটা ছাড়া আমার মনে হয় যে সময়টা চলে গিয়েছে, সেই সময়টার একটা অন্য রকম মজা ছিল। সেটা হয়তো আমার এখন করতে একদম ভাল লাগবে না। ওটা ওই সময়ের জন্যই ছিল। ওই সময় আনন্দের মাহাত্ম্য অন্য রকম ছিল। আমি মামাবাড়িতে মানুষ হয়েছি। আমার এক মামা খাদি ভবনে চাকরি করতেন। ওঁদের ওই খাদি ভবনের দোকানে মিষ্টির প্যাকেট বানানো, ক্যালেন্ডার ওইগুলো প্যাকেট করা হতো ক্রেতাদের দেওয়া হবে বলে। মামা আমায় ওদিন ওঁর সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আমি গিয়ে মিষ্টির প্যাকেটে মিষ্টি সাজাতে সাহায্য করতাম। ওটা আমার খুব মজা লাগত। মিষ্টি খাবার সুযোগ হতো।" তাঁর আরও সংযোজন, "দোকানে দোকানে হালখাতা হতো, সেখান থেকে বাড়ির লোকরা গিয়ে ক্যালেন্ডার, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস আনত, আর আমি বেছে বেছে আমার পছন্দের মিষ্টিগুলো আলাদা করে রেখে দিতাম। আর সারাদিন ধরে ওগুলো খেতাম। স্কুলের টিফিনে নিয়ে যেতাম। তখন যেহেতু ফ্রিজ ছিল না, সেহেতু জলের মধ্যে রেখে খাটের নিচে রাখা হতো যাতে ঠান্ডা থাকে, এক দু'দিন টিকে যায়। বৈশাখ মানে গরম। তার হাত থেকে বাঁচাতে এসব করতাম। আমি ভীষণ মিষ্টি খেতে ভালবাসতাম। আর যত বেশি মিষ্টিযুক্ত মিষ্টি ছিল সেগুলো খেতে ভালবাসতাম, যেমন কমলা ভোগ, ইত্যাদি।" 

নববর্ষ বলতেই কী মনে পড়ে রণজয়ের? মিষ্টি? নাকি অন্য কিছু? অভিনেতা হেসে বলেন, "নববর্ষে যতগুলো বছর একা আছি, যেখানে থাকি সেটাকে নিজের মতো ফুল দিয়ে সাজাই। হলুদ, কমলা গাঁদা মিলিয়ে মিশিয়ে সাজাই। সকাল থেকে সারাদিন রবীন্দ্র সঙ্গীত চলবে। একটা বিলাসিতা। যবে থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়েছে তবে থেকে সেখানে কবিতা পাঠ করে শোনানো, বা লাইভে আসা, দর্শকদের সঙ্গে কথা বলা এসব করি। আসলে আমার মাসির একটা নাচের এবং নাটকের দল ছিল, যেখানে আমিও ছোটবেলায় অভিনয় করতাম। এই দলের আয়োজনে ২৫ বৈশাখ এবং নববর্ষের দিন প্রভাত ফেরি করা হতো। সেখানে একটা অন্যরকম পরিবেশ থাকত। সেটার মধ্যে বড় হয়েছি হলে ওটা আমার সঙ্গে থেকে গিয়েছে।"