দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক রবি মোহন— যিনি সিনেপ্রেমীদের কাছে ‘জয়ম রবি’ নামে পরিচিত— এক নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলিউড তথা কলিউডে তোলপাড় ফেলে দিলেন। একদিকে প্রেমিকা তথা গায়িকা-থেরাপিস্ট কেনিশা ফ্রান্সিসের চেন্নাই ও কেরিয়ার ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে স্ত্রী আরতির সাথে তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদেরমামলা; সব মিলিয়ে মানসিক দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অভিনেতা সাফ জানিয়ে দিলেন— বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন না, অর্থাৎ অভিনয় পুরোপুরি বন্ধ রাখছেন!
সম্প্রতি আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে সাইবার বুলিং বা অনলাইন হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের বৈবাহিক জীবনের চরম যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ‘পন্নিয়িন সেলভান’ খ্যাত এই তারকা। এতদিন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরবতা বজায় রাখলেও এদিন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন রবি। একটি তামিল প্রবাদ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। এতদিন আমি মুখ খুলিনি, কিন্তু এবার সময় এসেছে। মানুষ ভাবে জয়ম রবি খুব নরম স্বভাবের মানুষ। আমি তেমনই ছিলাম, কিন্তু আর নয়। ‘ একজন সাধু রেগে গেলে কিন্তু বনের রক্ষা থাকে না’। কিছু মানুষ ক্রমাগত আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এটা আমার অফিস, ক্ষমতা থাকলে সামনাসামনি এসে লড়ো।”

এর পরেই অভিনেতা নিজের বৈবাহিক জীবনের বিস্ফোরক কিছু তথ্য সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে ওঁর নিজের দুই ছেলের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সন্তানদের বডিগার্ডের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মা-বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করার খেসারত দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে রবি বলেন, “মানসিক যন্ত্রণা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আমি নিজের হাতের রগ কেটে ফেলেছিলাম। তার পরের দিনও আমি ব্যান্ডেজ বেঁধে শুটিংয়ে হাজির হয়েছিলাম, এটাই ছিল কাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা। কিন্তু এখন আমি আর সৃজনশীল কাজে মন দিতে পারছি না। নারীবাদের নাম করে কিছু মানুষ অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে।”
রবির সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনের জেরে গত কয়েক মাস ধরে তীব্র ট্রোলিং ও অনলাইন হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ও স্পিরিচুয়াল থেরাপিস্ট কেনিশা ফ্রান্সিস। অবশেষে শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে চেন্নাই এবং নিজের মিউজিক কেরিয়ার চিরতরে ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কেনিশা। তিনি লেখেন, “এই জগৎটা শুধু মিথ্যেবাদী, প্রতারক এবং শোষকদের জন্য। আমি চেন্নাই ছেড়ে চলে যাচ্ছি, আমি হার মানলাম। আমার গান, আমার থেরাপি— সবকিছু ত্যাগ করলাম। সাইবার বুলিং ও কুৎসার কারণেই আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছি। নারীবাদ তোমরা জিতলে, ভালবাসা হেরে গেল।”
কেনিশার এই বিদায়ের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন জয়ম রবি। ট্রোলারদের ‘সাইবার বুলিং প্রিকস’ (কুৎসাকারী) বলে কটাক্ষ করে রবি বলেন, “সাইবার বুলিংয়ের একটা সীমা থাকে। আমার কাছে সব প্রমাণ আছে, আমি প্রত্যেকটা অ্যাকাউন্ট এবং অপমানের জবাব আইনি পথে দেব। তোমরা কেনিশাকে শহরছাড়া করলে... আমি ওঁর সুন্দর জীবনের কামনা করি।” সাঙ্গাবাদিক বৈঠকে রবির সঙ্গে তাঁর ভগ্নিপতি প্রসাদ উপস্থিত ছিলেন, যিনিও ওই পরিবারের দ্বারা একইভাবে ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন অভিনেতা।
কোনও নাম উল্লেখ না করলেও, ইন্ডাস্ট্রির এক ‘তিন অক্ষরের নামযুক্ত’ অভিনেত্রীকে তীব্র নিশানা করেন রবি। প্রকাশ্য মঞ্চে নারীবাদের বুলি আওড়ানো ওই অভিনেত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “নিজের কোনও কাজ নেই, অথচ অন্যের পরিবার ধ্বংস করে প্রকাশ্যে নারীবাদের জ্ঞান দিচ্ছেন! ওঁর মতো অলস অভিনেত্রীর মুখে এসব মানায় না।”
কয়েক মাস আগে স্ত্রী আরতির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন জয়ম রবি। আরতি দাবি করেছিলেন, তাঁকে না জানিয়েই রবি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরই রবির থেরাপিস্ট ও বন্ধু কেনিশার সাথে অভিনেতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। একটি মন্দিরের অনুষ্ঠানে কেনিশার পারফরম্যান্সের পর রবির তাঁকে জড়িয়ে ধরার ভিডিও ভাইরাল হতেই ট্রোলিংয়ের মাত্রা আকাশ ছোঁয়া হয়ে ওঠে। আর তার জেরেই ভেঙে গেল অভিনেতার কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন। ২০২৬-এর এই হাই-প্রোফাইল বিচ্ছেদ বিতর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
















