ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজ করতে প্যান বরাদ্দের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিল কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ । নতুন আয়কর বিধি, ২০২৬ অনুযায়ী বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য যে অতিরিক্ত নথি ও তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সেবি এবং বাজারের বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী। এরপরই নিয়মে একাধিক শিথিলতা আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
2
11
গত ২০ মার্চ সিবিডিটি নতুন প্যান আবেদন ফর্ম প্রকাশ করেছিল। সেখানে বেশ কিছু অতিরিক্ত তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়।
3
11
এর মধ্যে ছিল ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসেসি বা অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ তথ্য ও নথি। এমনকি আগে ঐচ্ছিক থাকা মোবাইল নম্বরের মতো তথ্যও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
4
11
কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ জানায়, অনেক দেশে ভারতের মতো ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ব্যবস্থা নেই অথবা নথিপত্রের নিয়ম আলাদা। ফলে ভারতে প্যান পেতে এবং বিনিয়োগ শুরু করতে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাদের।
5
11
এই পরিস্থিতিতে সেবির সঙ্গে আলোচনার পর সিবিডিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী কমন অ্যাপলিকেশন ফর্মে থাকা অথরাইজড সিগনেটরির নামই ফিল্ডের জন্য যথেষ্ট বলে ধরা হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত প্রতিনিধি সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
6
11
সেবি জানিয়েছে, অথরাইজড সিগনেটরির দায়িত্ব শুধুমাত্র প্যান আবেদন প্রক্রিয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া অথরাইজড সিগনেটরি, রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসেসি বা অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ সম্পর্কিত কোনও আলাদা নথিও আর জমা দিতে হবে না।
7
11
যোগাযোগের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। সিবিডিটি জানিয়েছে, অথরাইজড সিগনেটরির ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ল্যান্ডলাইন নম্বর এবং ই-মেল আইডি “যদি থাকে” তবেই দেওয়া যাবে। এই তথ্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট এফপিআই-র নিজস্ব যোগাযোগের তথ্য জমা দেওয়া যাবে।
8
11
পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। প্যান, আধার বা পাসপোর্ট নম্বর থাকলে তা জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু সেই তথ্য না থাকলে এফপিআই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
9
11
সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে টিআইএন সংক্রান্ত নিয়মে। অনেক দেশে টিআইএন ব্যবস্থা না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সমস্যায় পড়ছিলেন। এখন সিবিডিটি জানিয়েছে, যেখানে টিআইএন প্রযোজ্য নয়, সেখানে আবেদনকারীরা “0000000000” লিখতে পারবেন। একইসঙ্গে মোবাইল নম্বর না থাকলে ল্যান্ডলাইন নম্বর জমা দেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
10
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া অনেক সহজ করবে। আগে অতিরিক্ত নথি ও তথ্যের কারণে প্যান আবেদন এবং অনবোর্ডিং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল। নতুন নিয়ম সেই জটিলতা অনেকটাই কমাবে।
11
11
উল্লেখ্য, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা একটি কমন অ্যাপলিকেশন ফর্মের মাধ্যমেই সেবি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাঙ্ক ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা এবং প্যান আবেদন করেন। তাই এই নিয়ম শিথিল হওয়ায় ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে বাজার মহল।