নয়ের দশকের চকচকে রোমান্টিক হিরো থেকে আজকের ভয়ঙ্কর খলনায়ক— ববি দেওলের কেরিয়ারের এই রূপান্তর এক কথায় চমকপ্রদ। কেরিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে ‘আশ্রম’ সিরিজের মাধ্যমে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ববি এখন একের পর এক সাহসী ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে বাজিমাত করছেন। ‘অ্যানিম্যাল’ বা ‘দ্য বাডস অফ বলিউড’-এর পর এবার পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নতুন ক্রাইম থ্রিলার ‘বান্দর’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। তবে এই অন্ধকার চরিত্রটি করতে গিয়ে একসময় মারাত্মক দ্বিধায় পড়েছিলেন ববি। আর সেই দ্বিধা দূর করে তাঁকে সঠিক পথ দেখান তাঁর বাবা তথা প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র।
অনুরাগ কাশ্যপের ‘বান্দর’ ছবিতে ববিকে দেখা যাবে ছোটপর্দার একজন প্রাক্তন তারকার চরিত্রে, যাঁর বিরুদ্ধে পুরনো প্রেমিকা ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। চরিত্রটি এতটাই অন্ধকার এবং প্রচলিত প্রথাগত ‘হিরো’ ইমেজের বাইরের যে, ববি নিজেই সন্দিহান ছিলেন।একটি সূত্রের মতে, চিত্রনাট্য পাওয়ার পর ববি কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি এই চ্যালেঞ্জিং ও ডার্ক চরিত্রটি পর্দায় ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারবেন কি না। বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি তাঁর পরিবারের দ্বারস্থ হন।
ববির পরিবারের সদস্যরাও এমন একটি অন্ধকার চরিত্র নিয়ে রীতিমতো অবাক হয়েছিলেন। তবে এই দোটানার অবসান ঘটান বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দেন তাঁর নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গল্প। ছয়ের দশকে যখন ধর্মেন্দ্র তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন, তখন তিনিও ‘সত্যকাম’ (১৯৬৯) বা ‘অনুপমা’ (১৯৬৬)-র মতো অপ্রচলিত ও অফবিট ছবিতে কাজের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
ধর্মেন্দ্র ববিকে বলেন, “অভিনেতাদের কোনও চরিত্র করতেই লজ্জা পাওয়া উচিত নয়। আমিও মূলধারার বাইরে গিয়ে ‘সত্যকাম’ ও ‘অনুপমা’র মতো ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এমনকি ঝুঁকি নিয়ে বাসু চ্যাটার্জির ‘দিল্লাগি’ (১৯৭৮)-র মতো ছবিতেও কাজ করেছি। যাও, সুযোগটা কাজে লাগাও।” বাবার এই অনুপ্রেরণাই ববিকে নতুন করে সাহস জোগায় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ ‘বান্দর’-এর জন্য সম্মতি দেন।
ববি দেওল তাঁর বাবার আদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। সম্প্রতি একটি ফিল্মি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ধর্মেন্দ্রর হয়ে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার গ্রহণ করার সময় ববির কণ্ঠে ঝরে পড়েছিল আবেগ। ববির কোথায়, “তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর কাজ করেছেন। ভাল ও খারাপ— দু'টি সময়ই দেখেছেন, কিন্তু কখনও হাল ছাড়েননি। আমার অনুপ্রেরণা শুধুই আমার বাবা। তিনি এক অনন্য মানুষ।”
গত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে ৩০ বছর পূর্ণ করার পর ববি জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর বাবার মতোই দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে যেতে চান। আর সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাঁর ‘কেরিয়ার ২.০’-এর প্রতিটি পদক্ষেপে।
















