আদিত্য ধরের পরিচালনায় ‘ধুরন্ধর’ ছবি ও তার সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে রীতিমতো সুনামি তুলেছে। কিন্তু এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের মাঝেই চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে অস্বস্তিতে ছিলেন নির্মাতা। অবশেষে এই আইনি জটিলতায় এল বড় ধরনের মোড়। চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগে পরিচালক সন্তোষ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটল বম্বে হাইকোর্টে। সন্তোষ কুমার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
১. বিতর্কের সূত্রপাত ও আইনি লড়াই
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছিল আদিত্য ধর পরিচালিত ছবি ‘ধুরন্ধর’। ছবিটি ভারতে ১০০০ কোটি এবং বিশ্বজুড়ে ১৩০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে ইতিহাস গড়ে। এরপর ১৯ মার্চ মুক্তি পায় ছবির সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’, যা বিশ্বব্যাপী ১৭৮৮ কোটি টাকা আয় করে।
এর পরপরই পরিচালক সন্তোষ কুমার অভিযোগ করেন যে, আদিত্য ধরের এই ছবিটি তাঁর ২০২৩ সালে রেজিস্টার করা চিত্রনাট্য ‘ডি-সাহেব’-এর নকল। তিনি স্ক্রিনরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন-এ চিত্রনাট্যটি দেখানোর করার কথাও জানান এবং আদিত্যর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। গত ৩০ মার্চ এক প্রেস মিটে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় আদিত্য ধর বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
২. বম্বে হাইকোর্টের রায়: কী বললেন বিচারপতি?
মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি আরিফ ডক্টরের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সন্তোষ কুমারের আইনজীবী আদালতে জানান যে, সন্তোষ গত ৩০ মার্চ সাংবাদিক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইছেন। এরপর আদিত্য ধরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ড. সরাফ জানান, ক্ষমা চাওয়ার প্রেক্ষিতে তাঁর মক্কেল আর মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না।
আদালতের আদেশে রেকর্ড করা হয় –“আদালতে উপস্থিত সন্তোষ কুমারের পক্ষে আইনজীবী ভুরা তাঁর ৩০ মার্চের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আদিত্য ধরের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই ক্ষমার পর তিনি আর ক্ষতিপূরণের জন্য মামলাটি এগিয়ে নিতে চান না। ফলে মামলার নিষ্পত্তি ঘটল।”
৩. সন্তোষ কুমারের জন্য আইনি স্বাধীনতা
আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করলেও সন্তোষ কুমারের জন্য একটি বড় সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছেন। বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সন্তোষ কুমার চাইলে চিত্রনাট্য সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ আইনি পথে নিজের দাবি উপস্থাপন করতে পারবেন এবং এই রায়ের ফলে তাঁর সেই পথে কোনও বাধা তৈরি হবে না।















