বছরের পর বছর ধরে দর্শকের মনে একেবারে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে ‘পঞ্চায়েত’। যেখানে অনেক সিরিজ চমক, চেঁচামেচি আর টানটান নাটকের ওপর ভর করে এগোয়, সেখানে এই অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সিরিজটি হাঁটে একেবারে নিজের গতিতে। সহজ-সরল গল্প, নির্দোষ হাস্যরস, খুব চেনা সব চরিত্র আর গ্রামের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত-এই সব মিলিয়েই ‘পঞ্চায়েত’ হয়ে উঠেছে এমন এক শো, যেটা মানুষ বারবার দেখতে ফিরে আসে শান্তি আর ভাল লাগার খোঁজে।
ছোট্ট গ্রাম ফুলেরা।‌ এই গ্রামের সাধারণ জীবনের মধ্যেই অসাধারণ সৌন্দর্য খুঁজে পায় ‘পঞ্চায়েত’। আর ঠিক এই কারণেই সিরিজটি এত গভীরভাবে কাজ করে। চারটি সফল সিজনের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের কৌতূহল 'পঞ্চায়েত সিজন ৫'-এ গল্প কোন দিকে বাঁক নেবে?

 

 

সিজন ৪-এ ফুলেরায় এসেছে একাধিক বড় পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল গ্রামপ্রধানের নির্বাচন। মঞ্জু দেবী হারিয়েছেন তাঁর পদ, আর নতুন প্রধান হিসেবে উঠে এসেছেন ক্রান্তি দেবী। একই সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—সচিবজি অবশেষে 'ক্যাট' ( CAT) পরীক্ষা পাশ করেছেন। প্রথম সিজন থেকে যাঁর ব্যক্তিগত লড়াই দর্শক কাছ থেকে  দেখেছে, সেই যাত্রায় এটা নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলস্টোন।
এই সাফল্যের পরেই উঠে এসেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সচিবজি কি ফুলেরা ছেড়ে বড় কেরিয়ারের পথে পা বাড়াবেন, নাকি যে গ্রামটা ধীরে ধীরে তাঁর নিজের হয়ে উঠেছে, সেখানেই থেকে যাবেন? সিজন ৪-এ আরও ইঙ্গিত মিলেছে সচিবজি আর রিঙ্কির সম্পর্কের গভীরতারও।

 

'পঞ্চায়েত সিজন ৫' মূলত ঘুরবে সচিবজির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে ঘিরে। 'ক্যাট' (CAT) পাশ করার পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু তাঁর নিজের জীবনই নয়, ফুলেরার মানুষের জীবনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এখন এই গ্রামের অনেকেই কোনও না কোনও ভাবে তাঁর ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি রিঙ্কির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও নতুন মোড় নিতে পারে আরও পরিণত, আরও আবেগঘন হয়ে উঠতে পারে সেই গল্প।

 

অন্যদিকে, নতুন প্রধান হিসেবে ক্রান্তি দেবীর দায়িত্ব সামলানোও হবে সিজন ৫-এর গুরুত্বপূর্ণ দিক। গ্রাম রাজনীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিরোধীদের সামলানো, এই সব কিছুর মধ্যেই তৈরি হতে পারে নতুন হাসির খোরাক আর সূক্ষ্ম টানাপড়েন।

 

‘পঞ্চায়েত’ সিজন ৫ মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৬ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে। যদিও এখনও নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে মূল কাস্ট ফিরে আসার সম্ভাবনাই বেশি। সেই তালিকায় রয়েছেন জীতেন্দ্র কুমার, নীনা গুপ্তা, রঘুবীর যাদব, সনভিকা, ফয়জল মালিক এবং চন্দন রায়।