বলিউডের অন্দরমহলে বহুদিন ধরেই কানাঘুষো—শাহরুখ খান আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাকি গোপন সম্পর্ক ছিল। ‘ডন ২’ (২০১১) ছবিতে তেনাদের একসঙ্গে কাজের পর থেকেই আরও জোরালো হয় সেই গুজব। যদিও শাহরুখ বা প্রিয়াঙ্কা—কেউই কোনওদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ঠিক সেই সময়ই শাহরুখের স্ত্রী গৌরী খান নাকি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলে বি-টাউনের অন্দরমহল দাবি করে।

কিন্তু এবার বিজ্ঞাপন গুরু প্রহ্লাদ কাক্কর এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন—নিক জোনাসকে বিয়ে করার আগে প্রিয়াঙ্কা সত্যিই এক ‘সিরিয়াস অ্যাফেয়ার’-এ ছিলেন। আর সেই সম্পর্কের কথাই গোপন রেখেছিলেন এক বিশেষ কারণে। যদিও কোন ব্যক্তির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার এই সিরিয়াস সম্পর্ক ছিল, সেই নাম মোটেই ফাঁস করেননি ‘অ্যাড গুরু’!

 

প্রহ্লাদ কক্করের কথায়, “প্রিয়াঙ্কা একেবারে পুতুলের মতো। দারুণ মানুষ, পেশাদার, নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ উচ্চাভিলাষী, ফোকাসড আর সিঙ্গল-মাইন্ডেড। ওঁর একটা মর্যাদাবোধ আছে—কাউকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাতে দেয় না।”

প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন,“ ওঁর এই তথাকথিত সম্পর্ক নিয়ে সবাই কথা বলছিল, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা নিজে কখনও কোনও মন্তব্য করেননি। যদি সম্পর্কটা তুচ্ছ হতো, ও হাসি-ঠাট্টায় উড়িয়ে দিত। কিন্তু আসলে এটা ছিল সিরিয়াস, খুবই ব্যক্তিগত। তাই ও চায়নি এটা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে চুটিয়ে লেখা হোক বা আলোচনা চলুক।”

এখন অবশ্য প্রিয়াঙ্কা শুধু বলিউড নয়, হলিউডেও প্রতিষ্ঠিত নাম। নিক জোনাসকে বিয়ে করার পাশাপাশি হলিউডে একের পর এক বড় প্রজেক্টে কাজ করে আজ তিনি আন্তর্জাতিক তারকা। প্রহ্লাদ কাক্করের কথায়,“যখন ইন্ডাস্ট্রি ভাবল, প্রিয়ঙ্কা নাকি তরুণ নায়িকার চরিত্রের জন্য অনেকটাই ‘বড়’, তখনই ও সাহস নিয়ে পাড়ি দেয় বিদেশে। কোনওকিছুর পরোয়া না করে, এই বিরাট ঝুঁকি নিয়ে নিজের কেরিয়ার নতুন করে শুরু করে। বলো তো, ক’জন এমন সাহস দেখাতে পারে?”

অন্যদিকে, বচ্চন পরিবারের অন্দরের গোপন কাহিনি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।শাশুড়ি জয়া বচ্চনের সঙ্গে ঐশ্বর্যর নাকি বনিবনা নেই—এই প্রশ্নে প্রহ্লাদের উত্তর, “তাতে কী হয়েছে? তিনি এখনও তো বচ্চন বাড়ির বৌমা। তিনিই তো সংসার চালান।” আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘অ্যাড গুরু’ বলেন, “সবাই বলছে ঐশ্বর্য নাকি স্বামীর সংসার ছেড়ে মায়ের কাছে থাকছেন। আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। কেবল সকালে কয়েক ঘণ্টা মায়ের সঙ্গে থাকেন। রবিবারও আসেননা। ওঁকে আমি চিনি, মা’কে খুব ভালবাসেন, চিন্তাও করেন। কখনও কখনও অভিষেকও তো আসেন ঐশ্বর্যর মাকে দেখতে। তাহলে?  অভিষ্যেক যদি বিচ্ছেদের পথেই হাঁটতেন তাহলে কেন ঐশ্বর্যর মাকে দেখতে আসবেন?”

শেষে প্রহ্লাদ যোগ করেন,“ঐশ্বর্য সব সময় নিজের মর্যাদা বজায় রেখেছেন, কেরিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত।”

ভারতীয় বিজ্ঞাপনী জগতে প্রবাদপ্রতিম হিসেবে পরিচিত প্রহ্লাদ কক্করের ঝুলিতে রয়েছে অজস্র জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন। ভারতীয় বিজ্ঞাপন জগতে ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। বলা হয়, যাঁদের হাতে সাবালক হয়েছে ভারতীয় বিজ্ঞাপন দুনিয়া, প্রহ্লাদ কক্কর তাঁদের মধ্যে অন্যতম।  দুই বা তিন দশক আগের তৈরি অ্যাড ফিল্মগুলি তোলপাড় তুলেছিল দেশের টেলিভিশন দুনিয়ায়। তাঁর ব্যক্তিত্বের মতো কথাবার্তাও সোজাসাপটা, রঙিন এবং খানিক বিতর্কিত।