জাতীয় রাজধানীর রাজনীতিতে বড়সড় চমক এনে একদিন আগেই আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর এই পদক্ষেপে শুধু দলীয় সমীকরণই বদলায়নি, বরং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাতেও বড় ধাক্কার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আনফলো’ ট্রেন্ড তাঁর প্রতি যুবসমাজের মনোভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
2
7
চাড্ডা শুধু একাই দলবদল করেননি, তাঁর সঙ্গে আপের ছয়জন রাজ্যসভার সাংসদও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দলটি এখন সাংগঠনিক চাপে পড়েছে। যদিও কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁকে রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরানো হয়েছিল, তাই এই দলত্যাগ অনেকটাই অনুমিত ছিল। কিন্তু এই পদক্ষেপ যে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, তা হয়তো আন্দাজ করা যায়নি।
3
7
ডিজিটাল যুগে জনপ্রিয়তার অন্যতম মাপকাঠি সোশ্যাল মিডিয়া। সেই নিরিখে দেখা যাচ্ছে, ইনস্টাগ্রামে চাড্ডার ফলোয়ার সংখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ কমে গেছে। শুক্রবার যেখানে তাঁর ফলোয়ার ছিল ১ কোটি ৪৬ লক্ষ, শনিবার দুপুর নাগাদ তা নেমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষে। এই হঠাৎ পতন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
4
7
বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘ব্যাকল্যাশ’-এর মূল চালিকাশক্তি জেন জেড বা তরুণ প্রজন্ম। সোশ্যাল মিডিয়ায় “unfollowRaghavChadha” হ্যাশট্যাগ ইতিমধ্যেই ট্রেন্ড করছে। বহু ব্যবহারকারী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, চাড্ডার দলবদলে তাঁরা হতাশ। এনসিপি মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে টুইটে বলেন, “ইন্টারনেট যেমন রাতারাতি কাউকে নায়ক বানাতে পারে, তেমনই মুহূর্তে তাকে শূন্যেও নামিয়ে আনতে পারে।”
5
7
চাড্ডা এতদিন তরুণদের মধ্যে নিজের একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। সংসদে তিনি পিতৃত্বকালীন ছুটি, ট্রাফিক সমস্যা, ডেটা সীমাবদ্ধতা, এমনকি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত দামের সামোসা—এই ধরনের ‘সফট ইস্যু’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এই সব উদ্যোগ তাঁকে ‘অ্যাক্সেসিবল’ ও বাস্তবমুখী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল।
6
7
তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সেই ইমেজে ধাক্কা লেগেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, চাড্ডা তাঁর পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যেখানে নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপির সমালোচনা ছিল, তা মুছে ফেলেছেন। বর্তমানে তাঁর প্রোফাইলে ‘মোদি’ উল্লেখ করা মাত্র দু’টি পোস্ট রয়েছে, দুটিই প্রশংসাসূচক।
7
7
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন—ডেটা-চালিত এবং বিশ্লেষণমুখী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রাঘব চাড্ডা কি এই ‘ডিজিটাল সংকেত’ বুঝে নিজের ইমেজ পুনর্গঠন করতে পারবেন? নাকি যুবসমাজের এই ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলবে—তা সময়ই বলবে।