ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে আরবিআই। প্রিপেইড পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্টস যার মধ্যে পড়ে মোবাইল ওয়ালেট, গিফট কার্ড এবং প্রিপেইড কার্ড—এর জন্য একটি সংশোধিত কাঠামো প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এই খসড়া নির্দেশিকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দ্রুত রিফান্ড এবং উন্নত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
2
11
পিপিআই হল এমন একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা যেখানে আগাম টাকা লোড করে পরে তা বিভিন্ন লেনদেনে ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে জেনারেল পারপাস পিপিআই, গিফট পিপিআই, ট্রানজিট পিপিআই এবং অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য বিশেষ পিপিআই। আজকের ডিজিটাল অর্থনীতিতে এই সব মাধ্যম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
3
11
আরবিআই জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘমেয়াদে পিপিআই ব্যবস্থার বিকাশ নিশ্চিত করা, সেই সঙ্গে লেনদেনের নিরাপত্তা ও গ্রাহক সুরক্ষা বাড়ানো। এই উদ্দেশ্যে একটি খসড়া ‘মাস্টার ডিরেকশন’ জারি করা হয়েছে এবং ২২ মে, ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মতামত চাওয়া হয়েছে।
4
11
খসড়া অনুযায়ী, যেসব ব্যাঙ্ককে ডেবিট কার্ড ইস্যু করার অনুমতি দিয়েছে আরবিআই, তারা ডিপার্টমেন্ট অফ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমসকে জানিয়ে পিপিআই চালু করতে পারবে। অন্যদিকে, নন-ব্যাঙ্ক সংস্থাগুলিকে পিপিআই ইস্যু করতে হলে আরবিআই-র বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।
5
11
জেনারেল পারপাস পিপিআই-তে যে কোনও সময় সর্বোচ্চ ২ লক্ষ পর্যন্ত ব্যালেন্স রাখা যাবে। তবে নগদে লোড করার সীমা মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গিফট পিপিআই-র সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা এবং ট্রানজিট পিপিআই-র ক্ষেত্রে তা ৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
6
11
এছাড়াও, বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ পিপিআই চালুর প্রস্তাব দিয়েছে আরবিআই। পাসপোর্ট ও ভিসার ফিজিক্যাল যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই ওয়ালেট ইস্যু করা যাবে, যা ভারতে অবস্থানকালে মার্চেন্ট পেমেন্টে ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ধরনের পিপিআই থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৫ টাকা লক্ষ পর্যন্ত খরচ করা যাবে।
7
11
খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনও লেনদেন ব্যর্থ, বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট পিপিআই-তে অবিলম্বে রিফান্ড দিতে হবে। তবে অন্য কোনও পেমেন্ট মাধ্যম থেকে করা লেনদেনের রিফান্ড পিপিআই-তে জমা করা যাবে না।
8
11
গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আরবিআই স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছে। পিপিআই ইস্যু করার সময় সমস্ত ফিচার, চার্জ, মেয়াদ এবং শর্তাবলি সহজ ভাষায়—ইংরেজি, হিন্দি এবং স্থানীয় ভাষায়—জানাতে হবে।
9
11
খসড়া অনুযায়ী পিপিআই ইস্যুকারীর এজেন্টরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনও ফি নিতে পারবে না। পাশাপাশি, অননুমোদিত লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের দায় সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
10
11
এছাড়া, নন-ব্যাঙ্ক পিপিআই ইস্যুকারীদের সংগৃহীত অর্থ একটি পৃথক এসক্রো অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে, যা ভারতে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কে ভারতীয় মুদ্রায় পরিচালিত হবে।
11
11
সব মিলিয়ে বলা যায় আরবিআই-র এই প্রস্তাব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত, স্বচ্ছ এবং গ্রাহক-বান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।