রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বামেদের বাজি এক পরিচিত মুখ—প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা গৌতম দেবের পুত্র সপ্তর্ষি দেব। নির্বাচনের ময়দানে লড়াইয়ে নামার আগে নিয়ম মেনেই তিনি জমা দিয়েছেন তাঁর হলফনামা, যেখানে উঠে এসেছে এই তরুণ বাম নেতার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, আয় ও সম্পত্তির খতিয়ান।
2
8
৩৮ বছর বয়সী সপ্তর্ষি পেশায় একজন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-১বি এলাকার বাসিন্দা সপ্তর্ষি দেব প্রথমে প্রেসিডেন্সি থেকে স্নাতক পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার বলিষ্ঠ প্রমাণ দেয়।
3
8
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সপ্তর্ষির বার্ষিক আয় ৬,৬৩,৭৪০ টাকা। তাঁর স্ত্রী সৌমি মুখোপাধ্যায়ও পিছিয়ে নেই, তাঁর সমসাময়িক আয় প্রায় ৬,৩৯,৪৬০ টাকা। গত পাঁচ বছরে দম্পতির আয় ধাপে ধাপে বৃদ্ধির এক স্বচ্ছ চিত্র ফুটে উঠেছে এই নথিতে।
4
8
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নিরিখেও লড়াই বেশ সমানে সমানে। সপ্তর্ষির হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ৯ হাজার টাকা, অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। তবে ব্যাঙ্কে জমা ও অন্যান্য লগ্নি মিলিয়ে সপ্তর্ষির অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৪.৫৬ লক্ষ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রে তা ৫৭.৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
5
8
তরুণ প্রজন্মের নেতা হিসেবে সপ্তর্ষি সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট সাবলীল। ফেসবুক থেকে ইনস্টাগ্রাম—হলফনামায় তিনি তাঁর ডিজিটাল পরিচিতির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা আধুনিক ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর তাঁর অন্যতম মাধ্যম। তবে রাজনীতির পথ যে মসৃণ নয়, তা বোঝা যায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার খতিয়ান দেখে।
6
8
বর্তমানে সপ্তর্ষির নামে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একটি অতিমারি আইন লঙ্ঘন ও সরকারি কাজে বাধার দায়ে বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় এবং অন্যটি জাতীয় সড়কে পথ অবরোধের অভিযোগে বারাসাত থানায়। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে এই মামলাগুলো দায়ের হলেও, সপ্তর্ষি হলফনামায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কোনও মামলাতেই তিনি এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি।
7
8
রাজারহাট-নিউটাউনের এই লড়াইয়ে আরও একটি চমকপ্রদ দিক হল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যকার ব্যক্তিগত রসায়ন। এখানকার তৃণমূল প্রার্থী একসময় সপ্তর্ষির বাবা গৌতম দেবের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ ছিলেন, যাঁকে আজও সপ্তর্ষি 'কাকু' বলে সম্বোধন করেন। ফোনে কথা হওয়া বা সৌজন্য বিনিময়ে খামতি না থাকলেও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ এই তরুণ তুর্কি। তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত সৌজন্য এবং রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই সম্পূর্ণ আলাদা।
8
8
বাবার উত্তরসূরি হিসেবে যেমন তাঁর কাঁধে প্রত্যাশার চাপ রয়েছে, তেমনই নিউটাউনের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি কতখানি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে রাজারহাট-নিউটাউন এখন উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতির অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।