আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডীপুর থানার কুলুপ গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশ রহস্য দানা বাঁধছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার আগে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই চাকরি ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজ শুরু করেন এবং তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কাজ সামলাতেন।
পরিবারে মা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও ছোট ভাইঝিকে নিয়ে থাকতেন চন্দ্রনাথ। বাবা ২০২৪ সালে প্রয়াত হন। বর্তমানে ৬৯ বছর বয়সি মা হাসিরানী রথ শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন। পরিবারের দাবি, কাজের সুবিধার জন্য ইদানিং মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন চন্দ্রনাথ।
ঘটনার পর থেকেই চন্দ্রনাথের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তৃণমূল সরকারের আমলে বালি চুরি-সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের গুরুত্বপূর্ণ নথি চন্দ্রনাথের কাছে ছিল।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সেই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এলে বহু প্রভাবশালী নেতা ও দুষ্কৃতীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারত বলেও অভিযোগ। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের প্রাথমিক দাবি, প্রমাণ লোপাট করতেই এই খুন করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে আসল রহস্য কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।
প্রসঙ্গত, মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
এদিন মধ্য রাতে শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি ভগ্ন হৃদয় নিয়ে এসেছি এখানে। আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কিছু মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। ওঁ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঁ ছিল না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব না। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করছি, রাজ্য পুলিশের ডিজি এসেছিলেন। আমাকে এবং সুকান্ত মজুমদারকে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করবেন। গত ২-৩ দিন ধরে একটি ফলস নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন।"
এরপরই শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি রাজ্যজুড়ে বিজেপির সমস্ত কর্মী, সমর্থকদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দু'দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা আমরা করব। সবাইকে অনুরোধ করব, শান্তি বজায় রাখুন এবং এই পরিবারগুলোর পাশে থাকুন। আমরা থাকতে থাকতেই খড়দহতে বোমাতে একজন আহত, বরানগরে একজন আহত, বসিরহাটে একজন গুলিবিদ্ধ, এই খবরগুলো পেলাম। যাতে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়, তা দেখতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেব আমরা। সারাজীবন ওঁর পরিবারের পাশে থাকব। আহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।"















