ঘুমের জন্য প্রতিযোগিতা, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি৷ পৃথিবীর অন্যতম ঘুম-বঞ্চিত দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে প্রতি বছর হয় পাওয়ার ন্যাপ প্রতিযোগিতার।
2
11
কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হল এই বছরের সিওল মেট্রোপলিটান সরকারের আয়োজিত ‘পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট’। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শর্ত ছিল তিনটি— “ক্লান্ত হয়ে আসুন, ভরা পেটে আসুন, এবং রাজা-রানির পোশাকে সাজুন।”
3
11
দুপুর ৩টের সময় উদ্যানের সবুজ ঘাসের ওপর বিছানো হয়েছিল নরম গদি৷ কেউ পরে এসেছেন জোসন রাজবংশের সিল্কি লাল রাজপোশাক, কেউ পরীর মতো সাদা গাউন। ইচ্ছামতো পোশাকে সেজেছিলেন সকলে৷
4
11
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, পরীক্ষা আর পার্ট-টাইম কাজ মিলিয়ে রাতে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুম হয়৷ সারাদিন ডেস্কে ঝিমিয়ে বাকি ঘুমটা সেরে ফেলেন। প্রতিযোগিতায় রাজার মতো ঘুমোতে এসেছেন৷
5
11
কীভাবে হয় এই প্রতিযোগিতা?
ঘড়ির কাঁটা ৩টে ছুঁতেই উদ্যান জুড়ে নেমে আসে নীরবতা। সকল প্রতিযোগী চোখে স্লিপিং মাস্ক পরে শুয়ে পড়েন। কর্মকর্তারা ঘুরে ঘুরে প্রতিযোগীদের হার্ট রেট মেপে যাচাই করেন কে কতটা ক্লান্ত৷
6
11
শুধু চোখ বুজলেই হবে না। সত্যিকারের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ হল এমন বিশ্রাম, যেখানে হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল ও শরীর সম্পূর্ণ শিথিল। সাজগোজ, ভঙ্গি ও ঘুমের গভীরতা— সব মিলিয়েই বিজয়ী নির্বাচন করা হয়৷
7
11
আপাতদৃষ্টিতে এই প্রতিযোগিতা মজা মনে হলেও এর নেপথ্যে গভীর সংকট। তথ্য বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ। এখানকার মানুষের ঘুম সবচেয়ে কম৷
8
11
প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, দীর্ঘক্ষণ অফিস, রাত জেগে কাজ, সব মিলিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম এক গভীর সমস্যায়৷
9
11
সিওল শহর কর্তৃপক্ষ এই উৎসবের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে— বিশ্রাম বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। ঘুমকে গুরুত্ব দিন, না হলে পরিণাম মারাত্মক৷
10
11
কোরিয়ার এই গল্প ভারতের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক। ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের একটি বিরাট অংশ এখন গড়ে রাতে ছ’ ঘণ্টারও কম ঘুমান। আইটি কর্মী, স্টার্টআপ-কর্মী, শিক্ষার্থী— সবাই ‘হাসল কালচার’-এর শিকার।
11
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি; দিনে ১৫-২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি দৃঢ় করে।