ডাক্তার হতে চান, চাকরি থেকে অবসর নিয়ে নিট পরীক্ষায় বসলেন প্রবীণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
৬ মে ২০২৬ ১৯ : ০৫
শেয়ার করুন
1
10
পরীক্ষার হল, ভিড়ের মধ্যে সকলের চোখে মুখে টেনশন, কেউ বা শেষ মুহূর্তে পড়ে নিচ্ছেন জরুরি নোটস, তারই মাঝে দাঁড়িয়ে এক প্রবীণ৷ অভিভাবক নন, তিনিও পরীক্ষার্থী।
2
10
মাথার চুলে পাক ধরেছে, বয়স আর দায়িত্বের বোঝা কাঁধে থাকলেও মনের ইচ্ছা এখনও চিরনূতন।
লখনৌয়ের চন্দননগরের বাসিন্দা অশোকবাবু এক সময় কাজ করতেন একটি সার প্রস্তুতকারী সংস্থায় মার্কেটিং প্রধান হিসেবে। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর ২০০০ সালে স্বেচ্ছা-অবসর নেন তিনি।
5
10
অবসরের পর তিনি বিশ্রাম নেননি৷ বরং স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার করেছেন৷ তাঁর স্ত্রী ডঃ মঞ্জুল বাহার নিজে একজন চিকিৎসক, বর্তমানে কর্মরত আমেরিকায়। আত্মীয়স্বজনের অনেকেই চিকিৎসক।
6
10
পারিবারিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিসরে অশোকবাবুর এবার নিজের “প্রেসক্রিপশন লেখার অধিকার চাই”। পরীক্ষাকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বলেছেন অশোকবাবু।
7
10
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে অশোকবাবু বলেন, “ওষুধ সম্পর্কে আমি অনেক কিছুই জানি। কিন্তু কারো প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার অধিকার আমার নেই। সেই অধিকার পেতে গেলে অবশ্যই ডিগ্রি লাগবে। সেই লড়াই-ই করছি।” অশোকবাবুর চোখমুখে আত্মবিশ্বাস, এক স্থির লক্ষ্যের দীপ্তি।
8
10
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির নিয়ম অনুযায়ী, নিট-ইউজি পরীক্ষায় বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। ১৭ বছর সম্পূর্ণ হলেই যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই বিধান অনুযায়ীই অশোকবাবু সুযোগ পেয়েছেন।
9
10
অশোকবাবুর কথায়, “পরীক্ষায় সফল হওয়াই বড় কথা নয়— বড় কথা হলো চেষ্টার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে এবং পরিশ্রম করার সাহস থাকলে যে কোনো বয়সে যে কোনো সাফল্য সম্ভব।”
10
10
দু-তিনবার পরীক্ষায় পাশ না করলে যে সব তরুণ হতাশায় ডুবে যান তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণা অশোকবাবু৷ শুরুটা করাই কঠিন৷ তারপর তাও জীবনের গাড়ি যে কোনও পথ খুজে নেয়৷ কেবল শক্ত হাতে স্টিয়ারিং ধরে থাকা প্রয়োজন।