আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হল আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও আচরণবিধির কার্যকারিতা অবিলম্বে শেষ হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ জারি হওয়ায় সেখানে এখনও আদর্শ আচরণবিধি বহাল থাকবে।


নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়। এই নিয়মের আওতায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কোনও নতুন প্রকল্প ঘোষণা, আর্থিক অনুদান বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে না। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে। ভোট গ্রহণ এবং ফলপ্রকাশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বজায় থাকে।


কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির রিটার্নিং অফিসাররা আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। সেই কারণেই অবিলম্বে আদর্শ আচরণবিধি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এর ফলে এখন থেকে নতুন সরকার ও প্রশাসন স্বাভাবিক সরকারি কাজকর্ম, উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর কোনও নির্বাচনী বিধিনিষেধের মুখে পড়বে না।


তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ফলতা কেন্দ্রকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। ফলে সেখানে এখনও নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনেই চলতে হবে বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।


রাজনৈতিক মহলের মতে, আচরণবিধি প্রত্যাহারের ফলে নতুন সরকারগুলির কাজের গতি আরও বাড়বে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনের কারণে স্থগিত থাকা সরকারি টেন্ডার, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও ফের শুরু হতে পারে।

 


এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরলের মতো রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে দেশ। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর এখন নজর প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকারগুলির কাজের গতির দিকে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে অধিকাংশ রাজ্যে নির্বাচনী আবহ কাটিয়ে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করলেও ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলে সেখানে ফের জোরদার হবে রাজনৈতিক প্রচার।

&t=136s