আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের গণনা শুরু হবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই। ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা আজ। আগেরদিন বিনিদ্র রাত কাটালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সারারাত জেগে থাকলেন তিনি।‌ পাশাপাশি কর্মীদের বড় বার্তাও দিলেন।

 

গতকাল রাত একটা নাগাদ সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, "সতর্ক থাকুন। পাহারা দিন। রাত জাগুন। অভিযোগ করুন।" এরপরই লিখেছেন, "বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে বর্ধমানের আউশগ্রাম, কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে এরকম ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে, সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং স্ট্রং রুমে গাড়ি যাতায়াত করছে। আমি দলের কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আমি যেভাবে রাত জেগে সমস্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখছি আপনারাও রাত জেগে স্ট্রংরুমে জনগণের ভোট পাহারা দিন। কোথাও কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি কেউ সৃষ্টি করলে, তাদের ঘিরে ধরুন, সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করুন। এই সমস্তটাই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।" 

 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেলেই ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভবানীপুরের গণনা কেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান তিনি। বৃহস্পতিবার স্ট্রংরুম বিতর্কে দফায় দফায় উত্তেজনা বাড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে ছিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। তখন স্কুলের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় স্ট্রংরুম।

 

রাজ্যজুড়ে ভোট-পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভিডিওবার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ইভিএম নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা আছে এবং তাই স্ট্রংরুমে কড়া পাহারার প্রয়োজন। কর্মীদেরও স্ট্রংরুমের উপরে নজর রাখতে নির্দেশ দেন তিনি।

 

শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে স্ট্রংরুমে হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের, এখানেই হবে গণনা। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নিজের এজেন্টকে নিয়ে মমতা সেখানে যান। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। 

 

মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছিলেন, "মানুষ যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন, তার স্বচ্ছতা বজায় থাকা জরুরি। গণনায় কারচুপির চেষ্টা করলে বরদাস্ত করব না। আমাকে প্রথমে জওয়ানরা ভিতরে ঢুকতেই দিচ্ছিল না। কিন্তু এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে আমার ভিতরে যাওয়ার অধিকার আছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম আছে, প্রার্থী এবং তাঁর এজেন্ট সিলড রুমের বাইরে পর্যন্ত যেতে পারবেন। এখানে আমার কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম নিয়ে কারচুপির ফুটেজ সামনে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক ওদিক করছে, তাই আমি আমার কেন্দ্রে এসেছি।" 

 

তবে কমিশনের পক্ষে সিইও মনোজ আগারওয়াল বৃহস্পতিবার রাতে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজার তোলা স্ট্রংরুমে কারচুপি ও বহিরাগতদের আনাগোনার অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, সব ইভিএম সুরক্ষিত রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট বাছাইয়ের কাজ করছিল কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।