প্রাচীনকালে ধ্যানের আসনে হরিণের চামড়া কেন ব্যবহার করা হত? নেপথ্যে কোন আধ্যাত্মিক কারণ?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৪ মে ২০২৬ ০৭ : ০০
শেয়ার করুন
1
9
হিন্দু মন্দিরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশুর চামড়া ব্যবহার করা হয়৷ শিবের মূর্তির পরনে থাকে বাঘের ছাল, ঋষিদের ধ্যানের আসনে হরিণের চামড়া, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগুলি পশুহত্যার প্রতীক মনে হলেও প্রাচীন ভারতীয় দর্শন বলে ভিন্ন কথা।
2
9
শাস্ত্রীয় মতে, এই প্রতীকগুলোর নেপথ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বার্তা— যা পবিত্রতা, ত্যাগ ও আত্মজয়ের শিক্ষা দেয়।
3
9
ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ধ্যানের আদর্শ আসন বর্ণনা করেছেন। পবিত্র স্থানে এমন আসন স্থাপন করতে হবে যা খুব উঁচু নয়, খুব নীচুও নয়। আর তাতে বিছানো থাকবে কাপড়, হরিণের চামড়া এবং কুশঘাস। এ এক স্তরীয় আসন— প্রতিটি স্তরের প্রতীকী অর্থ আছে।
4
9
হরিণ তৃণভোজী, শান্ত, সাত্ত্বিক প্রাণী। শাস্ত্র মতে, এর চামড়ায় সঞ্চিত শক্তি (প্রাণ)-ও সাত্ত্বিক ও পবিত্র।
5
9
ধ্যানের সময় শরীরে যে আধ্যাত্মিক শক্তি জমা হয়, তা যাতে মাটিতে শুষে না যায়— তার অন্তরায় হিসেবে কাজ করত এই চামড়া।
6
9
বলা হয়, পৃথিবী সর্বশক্তির শোষক; তাই সাধক ও পৃথিবীর মাঝে একটি অন্তরায় প্রয়োজন। প্রাচীন ভারতের অরণ্যবাসী ঋষিরা যেহেতু বনে বাস করতেন, প্রাকৃতিকভাবে মৃত হরিণের চামড়াই ছিল সহজলভ্য ও সবচেয়ে উপযুক্ত উপকরণ।
7
9
প্রাচীনকালে যেসব চামড়া ব্যবহৃত হত, তা বেশিরভাগই ছিল প্রাকৃতিকভাবে মৃত পশুর। হিংসার মাধ্যমে পশু-নিধন করে চামড়া সংগ্রহ হিন্দু ধর্মের ‘অহিংসা’ নীতির বিরোধী।
8
9
আধুনিক আইন (Wildlife Protection Act, 1972) অনুযায়ী বাঘ-হরিণসহ বহু পশুর চামড়া কেনা-বেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই আজকের যোগসাধক ও মন্দির-প্রশাসনগুলি সিল্ক, পশমের আসন বা কম্বল ব্যবহার করছেন।
9
9
প্রতিটি জীব ব্রহ্মেরই প্রকাশ। মন্দিরে পশুর চামড়ার ব্যবহারের পেছনে পশুনিধনের নিষ্ঠুরতা নয়, লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা— যেখানে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান কোনো না কোনো সাধনার অংশ।