পেটের ভিতরে সমস্যা নির্ণয়ের জন্য মুখ দিয়ে নল ঢুকিয়ে যে এন্ডোস্কোপি বা কোলোনোস্কোপি করা হয়, এই সব প্রক্রিয়াগুলোর কথা শুনলেই অনেক রোগী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
2
12
দীর্ঘ নল মুখ বা পায়ুপথে ঢোকানোর অস্বস্তি, অ্যানেস্থেশিয়ার প্রয়োজন, ভয়— সব মিলিয়ে অনেকেই দরকার সত্ত্বেও পরীক্ষা করাতে চান না। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান এনে দিচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক চমকপ্রদ আবিষ্কার ‘ক্যাপসুল এন্ডোস্কোপি’ বা সাধারণ ভাষায় ‘ক্যামেরা পিল’।
3
12
কী এই ক্যামেরা পিল?
আকারে একটি ভিটামিন ক্যাপসুলের মতোই ছোট। মাত্র ১১ মিমি চওড়া এবং ২৬ মিমি লম্বা। কিন্তু এর ভিতরে রয়েছে একটি ক্ষুদ্র উচ্চ-রেজোলিউশনযুক্ত ক্যামেরা, এলইডি আলোর উৎস, ব্যাটারি এবং ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটার।
4
12
রোগী এক গ্লাস জলের সঙ্গে ক্যাপসুলটি গিলে ফেলেন। এরপর পাচনতন্ত্রের স্বাভাবিক গতিতে এটি খাদ্যনালী থেকে শুরু করে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদন্ত্র— সমস্ত পথ অতিক্রম করে।
5
12
এই যাত্রাপথে এই ক্ষুদ্র ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে দু’টি বা তারও বেশি ছবি তুলতে থাকে। ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার যাত্রায় হাজার হাজার ছবি তোলে৷
6
12
সেগুলো ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর কোমরে বাঁধা একটি ছোট রেকর্ডারে পাঠিয়ে দেয়।পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা সেই ছবিগুলো বিশেষ সফটওয়্যারে বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করেন।
7
12
ক্যামেরা পিলের সবচেয়ে বড় সাফল্য— এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের সেইসব এলাকা পরীক্ষা করতে পারে, যেখানে প্রচলিত এন্ডোস্কোপ পৌঁছাতে পারে না।
8
12
ক্ষুদ্রান্ত্র প্রায় ২২ ফুট লম্বা এবং অসংখ্য বাঁক থাকার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের কাছে এক ‘অন্ধকার অঞ্চল’ ছিল। ক্যামেরা পিল সেই অঞ্চলকেই আজ চোখের সামনে এনে দিচ্ছে। অজানা কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, ক্রোনস ডিজিজ, ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রদাহ, পলিপ, টিউমার, সিলিয়াক রোগ, যা সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না সেসব ক্ষেত্রে এই যন্ত্র অত্যন্ত কার্যকরী৷
9
12
ক্যাপসুলটি একবারই ব্যবহার করা যাবে৷ পরীক্ষা শেষে এটি স্বাভাবিক মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, অ্যানেস্থেশিয়া লাগে না, হাসপাতালে ভর্তিও দরকার পড়ে না।
10
12
রোগী পরীক্ষার সময়ও স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘মিনিম্যালি ইনভেসিভ’ পদ্ধতি— অর্থাৎ ন্যূনতম শারীরিক হস্তক্ষেপ।
11
12
ভারতে দিল্লির এইমস, মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল, কলকাতার কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে এই পরিষেবা পাওয়া যায়। এই ক্যাপসুল দিয়ে একবার পরীক্ষা করতে প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা খরচ হয়৷
12
12
কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে৷ অন্ত্রে গুরুতর সংকোচন বা বাধা থাকলে ক্যাপসুল আটকে যাওয়ার বিরল ঝুঁকি থাকে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।