আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা সফল না হওয়ায়, বিশ্বব্যাপী বাজার বেশ নড়বড়ে। এই অবস্থা আগামী বেশ কিছুদিন ধরেই একই থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে, বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনকি সোনা, যা সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে ঝুঁকি কমানোর উপায় হিসেবে প্রসিদ্ধ, তার দামও ওঠানামা করছে। তাই, খুচরা বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। একইভাবে, বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতু এবং ফিক্সড ইনকাম ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগের বিষয়েও স্পষ্টতা খুঁজছেন।
তাই, বাজার বিশেষজ্ঞদের একটি সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। যেমন- যদি আজ আপনার কাছে বিনিয়োগের জন্য ১০০ টাকা থাকত, তাহলে আপনি তা শেয়ার, সোনা, রুপো এবং ফিক্সড ইনকামের মধ্যে কীভাবে ভাগ করবেন?
তিনজন বাজার বিশেষজ্ঞের মতামত নিম্নরূপ:
অমিত সুরি, সিএফপি এবং এউএম ওয়েলথের ডিরেক্টর ও সিইও: লক্ষ্য হল বৃদ্ধি এবং সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
শুভম গুপ্ত, সিএফএ এবং গ্রোথভাইন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও: তিনটি স্তম্ভ - বৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা, বৈচিত্র্যকরণ।
পরমদীপ সিং, লং টেইল ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা: সম্পদ বণ্টন বাজারের অস্থিরতা নয়, বরং আয়ের স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি সহনশীলতার প্রতিফলন হওয়া উচিত।
সম্পদ শ্রেণি বণ্টন: এখন কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ইকুইটি ৫০-৬০ টাকা: দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ সৃষ্টি। মুদ্রাস্ফীতিকে হার মানায়।
সোনা ১৫-২০ টাকা: ভূ-রাজনৈতিক চাপের সময় সুরক্ষা দেয়।
রুপো ৫ টাকা: বৈচিত্র্যকরণে সোনাকে সমর্থন করে।
স্থির আয়ের শেয়ার ২৫-৩০ টাকা: স্থিতিশীলতা, তারল্য, কম অস্থিরতা।
ইকুইটি - বৃদ্ধির চালিকাশক্তি: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ইকুইটি আয় এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে অনুসরণ করে। এগুলোর মূল্য চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে। এখানেই প্রকৃত সম্পদ তৈরি হয়। তবে মূল্যের ওঠানামা আশা করা যায়।
সোনা ও রুপো - সংকট-শোষক: ভয় বাড়লে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা থাকে। অন্যদিকে রুপো খুব একটা সম্পদ তৈরি করে না। অনিশ্চয়তা বাড়লে এগুলো ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখে।
স্থির আয় - স্থিতিশীলতা রক্ষাকবচ: এফডি, আরডি, ডেট ফান্ড। এগুলো উত্তেজনা সৃষ্টি করে না। এগুলো সুরক্ষা দেয়। বাজার পড়ে গেলে এগুলো তারল্য সরবরাহ করে। দরপতনের সময় এগুলো আপনাকে বিনিয়োগের জন্য নগদ অর্থ দেয়।
বিভিন্ন ধরণের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের বিভাজন:
* রক্ষণশীল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে- ৩০ শতাংশ, সোনায় ১৫ শতাংশ, রুপোয় ৫ শতাংশ এবং স্থির আয়ে ৫০ শতাংশ।।
* ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে- ৫৫ শতাংশ, সোনায় ১৫ শতাংশ, রুপোয় ৫ শতাংশ, স্থির আয়ে ২৫ শতাংশ।
* আক্রমণাত্মক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে- ৬৫ শতাংশ, সোনায় ১০ শতাংশ, রুপোয় ৫ শতাংশ, স্থির আয়ে ২০ শতাংশ।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
আপনার ৬ থেকে ১২ মাসের জীবনযাত্রার খরচ বাজার-সংযুক্ত সম্পদের বাইরে রাখুন। এই 'সারভাইভাল বাফার' বা জরুরি তহবিল আপনাকে আতঙ্কিত হয়ে সম্পদ বিক্রি করা থেকে বিরত রাখবে।
পরমদীপ সিং বলেন, "আমি অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি ভুল হতে দেখি, তা হল তাদের আচরণ। বাজার যখন স্থিতিশীল বা সুবিধাজনক মনে হয়, তখন মানুষ প্রায়শই অতিরিক্ত ঝুঁকি নেয়, আবার বাজার যখন সস্তায় (কম দামে) পাওয়া যায়, তখন তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে নেয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আসল সুবিধা হল - বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনুমান করা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সম্পদ-বণ্টন পরিকল্পনায় অটল থাকা এবং বাজারের পরিস্থিতি যখন অস্বস্তিকর মনে হয়, তখন পোর্টফোলিওটি পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ করে নেওয়া।"
তবে সুরি উল্লেখ করেন যে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন কোনও একটি নির্দিষ্ট সূত্র নেই যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, "একটি নির্দিষ্ট সম্পদ-বণ্টন পরিকল্পনা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, যদি তা বিনিয়োগকারীর বয়স, আয়ের স্থিতিশীলতা, আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমার প্রতিফলন না ঘটায়। একজন তরুণ বিনিয়োগকারী (যার হাতে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘ সময় রয়েছে) তিনি হয়তো ইকুইটিতে বা শেয়ার বাজারে অধিক অর্থ বিনিয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। ॥॥॥॥অন্যদিকে, যিনি অবসরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন, তিনি হয়তো স্থির আয়ের সম্পদ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে অধিক অংশ বিনিয়োগ করতে পছন্দ করবেন। বিনিয়োগের সঠিক বণ্টন বা 'অ্যালোকেশন' সেটাই, যা একজন বিনিয়োগকারীকে বাজারের উত্থান-পতনের মধ্যেও দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে বিনিয়োগে অটল থাকতে সহায়তা করে।"















