আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইপিএফ হল ভারত সরকার পরিচালিত একটি নির্ভরযোগ্য অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প। প্রতি মাসে, কর্মী এবং নিয়োগকর্তা - —উভয়েই তাঁদের বেতনের ১২ শতাংশ ইপিএফ-এ জমা করেন। এই জমানো অর্থ আপনার সঞ্চয়কে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং প্রতি বছর এর ওপর সুদ অর্জিত হয়। প্রতিটি আর্থিক বছরের শুরুতে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের জন্য সুদের হার বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন যে, যদি তাঁরা চাকরি হারান এবং নতুন কোনও চাকরি না পান, তবে তাঁদের ইপিএফ (কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল)-এর সঞ্চিত অর্থের ওপর সুদ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে, এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। ইপিএফ সংস্থা (ইপিএফও)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেকারত্বের সময়ে - যখন তহবিলে নতুন করে কোনও অর্থ জমা করা হচ্ছে না, তখনও আপনার আগের ইপিএফ সঞ্চয়ের ওপর সুদ জমা হতে থাকে।

চাকরি হারানোর পর ঠিক কী ঘটে?
আপনি যখন টাকরি ছাড়ছেন, তখন আপনার ইপিএফ-এ নতুন করে অর্থ জমা করা বন্ধ হয়ে যায়। তবে, আপনার বিদ্যমান ইপিএফ অ্যাকাউন্টটি সক্রিয়ই থাকে। তহবিলের অর্থ ওই অ্যাকাউন্টেই জমা থাকে। যদি ৩৬ মাস (৩ বছর) ধরে অ্যাকাউন্টে নতুন করে কোনও অর্থ জমা না পড়ে, তবে অ্যাকাউন্টটিকে 'নিষ্ক্রিয়' হিসেবে গণ্য করা হয়। তা সত্ত্বেও, অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এর ওপর সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

সুদ কি জমা হবে?
অবশ্যই, আপনি তখনও সুদ পেতে থাকবেন। ইপিএফও-এর নিয়মাবলি অনুযায়ী, আপনার বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আপনার ইপিএফ সঞ্চয়ের ওপর সুদ জমা হতে থাকবে, এমনকি যদি এরপর আর কোনও অর্থ জমা নাও করা হয়। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে সরকার নিশ্চিত করেছিল যে, আপনার বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অ্যাকাউন্টের ওপর সুদ জমা হতে থাকবে। ৫৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর, অ্যাকাউন্টটিকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এরপর আর কোনও সুদ দেওয়া হয় না (তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যদি অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও অর্থ তোলা না হয়, তবে আপনি আরও তিন বছরের সুদ পেতে পারেন।

ধরুন, আপনার বয়স ৩৫ বছর এবং আপনি সম্প্রতি আপনার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ টাকা জমা আছে। পরবর্তী ২৩ বছর ধরে (অর্থাৎ আপনার বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত), এই অর্থের ওপর বার্ষিক প্রায় ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ জমা হতে থাকবে। এই সুদের হিসাবটি 'চক্রবৃদ্ধি' পদ্ধতিতে করা হয়; যার অর্থ হল, আপনি আপনার মূল সঞ্চয়ের ওপর তো বটেই, এমনকি অর্জিত সুদের ওপরও পুনরায় সুদ পাবেন।

কীভাবে সুদ অর্জিত হয়? 
সুদের হার বার্ষিকভাবে নির্ধারিত হয় এবং সাধারণত বছরের শেষে তা অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। মাসিক ব্যালেন্স বা জমার স্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সুদ গণনা করা হয়। এছাড়া, অর্জিত সুদ সম্পূর্ণ করমুক্ত (তবে কিছু শর্ত প্রযোজ্য, যেমন- অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত জমার ওপর কর)।

এই বিষয়গুলো মনে রাখবেন:

অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর - আপনি যদি নতুন কোনও চাকরিতে যোগ দেন, তবে আপনার পুরনো ইপিএফ অ্যাকাউন্টটি নতুন কোম্পানিতে স্থানান্তর করে নিন। এর ফলে আপনার সমস্ত জমার তথ্য একটি অ্যাকাউন্টের মধ্যেই থাকে, যা পরিচালনা করাকে অনেক সহজ করে তোলে।

টাকা তোলার নিয়মাবলি - আপনি যদি চাকরি হারান বা বেকার হয়ে পড়েন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার জমানো অর্থের ৭৫ শতাংশ তুলে নিতে পারেন। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থ এক বছর পর তোলা যায়। তবে, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অর্থ তুলে নিলে সুদের সুবিধা কিছুটা কমে যায়। তাই অর্থ অ্যাকাউন্টে জমা রেখে দেওয়াই শ্রেয়, যাতে এর ওপর সুদ জমা হতে থাকে।

৫৮ বছর বয়সের পর - অবসরের সময় আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নিতে পারেন। যদি এই অর্থ না তোলা হয়, তবে এর ওপর সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অনলাইনে যাচাই করুন - UMANG অ্যাপ অথবা ইপিএফও-এর ওয়েবসাইট (epfindia.gov.in)-এর মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নিন। সেখান থেকে আপনার পাসবুকটি ডাউনলোড করুন এবং অর্জিত সুদের পরিমাণ দেখে নিন।