আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের আয়কর আইনে ফ্রিল্যান্সার, পেশাজীবী বা কনট্রাকচুয়াল আয়ের ক্ষেত্রে সেকশন ৪৪এডিএ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। অনেক কোম্পানি বা ক্লায়েন্ট পরামর্শ দেন যে এই ধারার অধীনে ৫০% আয়কে সরাসরি লাভ হিসেবে দেখাতে, যাতে কর সংক্রান্ত ঝামেলা কমে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—আপনি যদি বাস্তবে খরচের হিসাব না রেখে সরাসরি ৫০% লাভ ঘোষণা করেন, তাহলে কি তা ভবিষ্যতে কোনও স্ক্রুটিনি বা সমস্যা তৈরি করতে পারে?


প্রথমেই বুঝতে হবে এটি একটি স্কিম যেখানে সরকার ধরে নেয় যে আপনার মোট আয়ের অন্তত ৫০% লাভ। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—আপনাকে আলাদা করে বিস্তারিত হিসাবপত্র রাখতে হয় না, যদি আপনি আপনার মোট রিসিপ্টের কমপক্ষে ৫০% আয় হিসেবে ঘোষণা করেন। অর্থাৎ, আপনি যদি সরাসরি ৫০% লাভ দেখান, তাহলে আইন অনুযায়ী সেটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে নিজে থেকেই কোনও সন্দেহ বা স্ক্রুটিনি শুরু হওয়ার কথা নয়।


তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। এই স্কিমে বলা হয়েছে—আপনার প্রকৃত লাভ যদি ৫০% এর বেশি হয়, তাহলে আপনাকে সেই বেশি অংশটাই দেখাতে হবে। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো আইনত ঠিক নয়। যদিও বাস্তবে আয় নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে, তবুও আয়কর দপ্তর যদি মনে করে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে আয় কম দেখিয়েছেন, তাহলে তারা তদন্ত করতে পারে।


অন্যদিকে, যদি আপনি মনে করেন আপনার প্রকৃত লাভ ৫০% এর কম, তাহলে আপনি সেটি ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে সেকশন ৪৪এএ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ হিসাবপত্র রাখতে হবে—যেমন ক্যাশ বুক, লেজার, বিল-ভাউচার ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, আপনার মোট আয় যদি বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট ছাড়িয়ে যায়, তাহলে সেকশন ৪৪এবি অনুযায়ী ট্যাক্স অডিটও বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। ফলে কম আয় দেখানোর সিদ্ধান্ত নিলে আপনার কমপ্লায়েন্সের চাপ অনেক বেড়ে যায়।


এখন প্রশ্ন হল—৫০% সরাসরি দেখানো কি নিরাপদ? সাধারণভাবে বলা যায়, হ্যাঁ। কারণ এই স্কিমের মূল উদ্দেশ্যই হলো ছোট পেশাজীবীদের জন্য কর ব্যবস্থা সহজ করা। আপনি যদি নিয়ম মেনে ৫০% বা তার বেশি আয় ঘোষণা করেন, তাহলে আলাদা করে খরচের প্রমাণ না রাখলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বাস্তবিক দিক থেকে কিছু বেসিক রেকর্ড রাখা সবসময়ই ভালো অভ্যাস, ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা কাজে লাগতে পারে।

 


সবশেষে, মনে রাখতে হবে—এই নিয়মগুলি FY 2025-26 (AY 2026-27) পর্যন্ত প্রযোজ্য। ১ এপ্রিল ২০২৬-এর পর নতুন আয়কর আইন কার্যকর হলে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সময় অনুযায়ী নিয়ম আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি। সারসংক্ষেপে বলা যায় ৫০% আয় ঘোষণা করা আইনসম্মত ও নিরাপদ পথ হলেও, নিজের প্রকৃত আয় ও কর-পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।