আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও ‘সেফ-হেভেন’ হিসেবে পরিচিত সোনা এবার উল্টো পথে হাঁটছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে প্রায় ৯% পর্যন্ত পতন হয়েছে। সাধারণত যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংকটের সময় সোনার দাম বাড়ার কথা, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমদিকে সোনার দাম কিছুটা বাড়লেও খুব দ্রুতই তা কমতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দাম প্রায় ৫% কমে যায় এবং পরবর্তীতে আরও বড় পতন দেখা যায়।
কেন পড়ছে সোনার দাম?
প্রথমত, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া বড় কারণ। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে ডলার ও বন্ডের দিকে ঝুঁকেছেন। ডলার শক্তিশালী হলে সোনা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে দামি হয়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে।
দ্বিতীয়ত, উচ্চ সুদের হার। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার কমাতে পিছপা হচ্ছে। ফলে সুদবাহী বিনিয়োগ যেমন বন্ড বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, আর সোনা—যা কোনও সুদ দেয় না—তার চাহিদা কমছে।
তৃতীয়ত, ‘প্রফিট বুকিং’। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের শুরুতে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তাই অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে বিক্রি শুরু করেন, যা দাম আরও নামিয়ে দেয়।
যুদ্ধ ও বাজার—বিপরীত সমীকরণ
ইউএস–ইরান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে সব আর্থিক সম্পদের উপর।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও তা বারবার ভেঙে পড়ছে, ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। যদিও কিছু সময়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে শেয়ারবাজার বাড়ছে এবং তেলের দাম কমছে, কিন্তু সোনার বাজারে ওঠানামা অব্যাহত।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে আরও চাপ থাকতে পারে। যদি সুদের হার উচ্চ থাকে এবং ডলার শক্তিশালী থাকে, তাহলে সোনা আরও কিছুটা নামতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে চিত্র ভিন্ন হতে পারে। রাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ না হলে সোনার প্রতি চাহিদা আবার বাড়তে পারে। এমনকি কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ালে সোনা আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে, বিশেষ করে যদি ডলার দুর্বল হয় বা সুদের হার কমে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতার। সোনা সবসময় নিরাপদ আশ্রয়—এই ধারণা সবসময় সত্যি নয়, তা এবার স্পষ্ট। বাজার এখন একাধিক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করছে—ডলার, সুদের হার, তেলের দাম এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে, সোনার বাজার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে—আর সেই কারণেই সামনে আরও ওঠানামা অবশ্যম্ভাবী।















